চমেকের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট তদন্তে আদালতের নির্দেশ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স সেবায় কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার এ নির্দেশনা জারি করেন। আদালত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া আদালতের নির্দেশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫ ধারা অনুযায়ী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পদাধিকারবলে ‘জাস্টিস অব দ্য পিস’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনস্বার্থ এবং হাসপাতাল এলাকায় সুষ্ঠু চিকিৎসা পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আদালত এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর আগে গত রোববার বিকেলে হাসপাতালের পূর্ব গেট এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সদস্যদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর এনসিপির নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার নামে চলা সিন্ডিকেট বন্ধের দাবি জানান।
দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল এলাকায় কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী অ্যাম্বুলেন্স সেবার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। পাশাপাশি সমিতির বাইরে থাকা অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে হাসপাতালে প্রবেশে বাধা দেওয়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহনে রোগী ও মরদেহ পরিবহন এবং মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সোমবার হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গত বছরের জুনে নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে মঙ্গলবার হাসপাতালের খেলার মাঠে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির অধীন পরিচালিত অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ফিটনেস যাচাই কার্যক্রম শুরু করা হয়।
পরবর্তীতে রাতে আদালতের তদন্ত নির্দেশনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও ভিডিওচিত্রে হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় একটি চক্রের নানা অনিয়ম, সহিংসতা ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের তথ্য উঠে এসেছে।
আদেশে আরও বলা হয়, অভিযোগ অনুযায়ী এই চক্র হাসপাতালের মর্গ ও আশপাশের এলাকায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রোগী ও মরদেহ পরিবহনে স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। পাশাপাশি বাইরের বৈধ যানবাহন প্রবেশে বাধা সৃষ্টি এবং অনুমোদনহীন যানবাহনকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে মানুষের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে অর্থ আদায় এবং প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলার মতো ঘটনা আইনের শাসন ও জনস্বার্থের জন্য উদ্বেগজনক।
এ অবস্থায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, চাঁদাবাজ, হামলাকারী এবং অবৈধভাবে পরিচালিত অ্যাম্বুলেন্সের মালিকদের শনাক্ত করতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/এনউব