শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

অপরাধীর কোনো দল-পরিচয় নেই: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, দল, গোষ্ঠী কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে বিবেচনা না করে অপরাধী হিসেবেই দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও চট্টগ্রাম পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) চট্টগ্রামের হালিশহর সিভিক সেন্টারে জেলা পুলিশ আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, অপরাধীর কোনো দল নেই, কোনো গোত্র বা বর্ণ নেই। অপরাধীকে শুধু অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করতে হবে। অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কোনো ধরনের প্রভাব বা পরিচয়ের তোয়াক্কা না করে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হচ্ছে সমাজ থেকে অপরাধ, মাদক, অস্ত্রবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করা। একজন সমাজকর্মী, রাজনৈতিক কর্মী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিজের অবস্থান থেকে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রামকে মাদকমুক্ত, অস্ত্রবাজমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত করার জন্য আমরা কাজ করে যাব। এ উদ্যোগ সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।’

মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পুলিশ, প্রশাসন, আইনজীবী ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং তরুণ সমাজকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এখন শুধু সভা-সমাবেশ করে মাদকের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার সময় নয়; মাদক নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের মতো একটি সামাজিক ব্যাধি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

জঙ্গল সলিমপুরে নতুন কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে মাদক ও মাদকসংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের জন্য পৃথক কারাগারের ব্যবস্থা করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এমন ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে সাধারণ অপরাধীদের সঙ্গে মাদকচক্রে জড়িতদের যোগাযোগ ও পারস্পরিক প্রভাব কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম। তিনি মাদকের ভয়াবহতা, তরুণ প্রজন্মের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদকবিরোধী আইন প্রয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

মাদকবিরোধী এই সমাবেশে শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গুতে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নষ্ট করে না, এর প্রভাব পরিবার ও সমাজের ওপরও পড়ে। তাই মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

সমাবেশ শেষে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি মাদকবিরোধী র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

ভোরের আকাশ/ এনউব

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

শেয়ার করুন: