কালজয়ী দুই গানের নতুন সংস্করণে দুইবাংলায় প্রশংসিত রাজিয়া মুক্তি

এপার-ওপার দুই বাংলায় সংগীতপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন পাবনার মেয়ে রাজিয়া মুক্তি। ভারতের প্রখ্যাত গীতিকার মোহিনী চৌধুরীর লেখা ‘উন্মনা মন স্বপ্ন মগন’ ও তাঁর স্ত্রী লীলা চৌধুরীর লেখা ‘যখন রাত্রি নিঝুম নেই চোখে ঘুম’—জনপ্রিয় এ দুটি গান নতুন সংগীতায়োজনে কাভার করেছেন তিনি। কলকাতার প্রাইম পিক্সেল স্টুডিওতে গান দুটির নতুন সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে।
গান দুটি প্রকাশের পর থেকেই সংগীতাঙ্গনে প্রশংসা পাচ্ছেন রাজিয়া মুক্তি। তাঁর এ অর্জনে আনন্দিত ও গর্বিত পাবনাবাসী। এর আগেও কলকাতা থেকে মোহিনী চৌধুরীর লেখা ও তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র ভবিষ্যৎ চৌধুরীর সুরে রাজিয়া মুক্তির কণ্ঠে দুটি মৌলিক গান প্রকাশিত হয়েছে। গান দুটি হলো ‘সূর্য এবার নতুন আকাশে জাগো’ ও ‘সাগরে যে ঘর বেঁধেছে’।
রাজিয়া মুক্তি পাবনা জেলার আমিনপুর গ্রামের নুরুল আমিন রইসীর মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই নজরুলসংগীত ও আধুনিক গানের চর্চা করছেন তিনি। সুরেলা কণ্ঠ ও আবেগঘন গায়কীর মাধ্যমে শ্রোতাদের মন জয় করে আসছেন এ শিল্পী।
মোহিনী চৌধুরীর আরেক ছেলে, চিত্রপরিচালক দিগ্বিজয় চৌধুরী রাজিয়া মুক্তির কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য ও গানের মান বিবেচনায় তাঁর বাবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনায় লেখা দুটি অপ্রকাশিত গান গাওয়ার জন্য তাঁকে বেছে নেন। গান দুটি শ্রোতাদের কাছেও প্রশংসা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মূল সুর অক্ষুণ্ন রেখে বর্তমান সময়ের শ্রোতাদের উপযোগী করে গান দুটির নতুন সংগীতায়োজন করা হয়েছে। কাভার সংস্করণে পুরুষ কণ্ঠে গাওয়া গানের আবেগকে নিজের কোমল কণ্ঠে তুলে ধরেছেন রাজিয়া মুক্তি। বিশেষ করে মায়ের প্রতি সন্তানের গভীর আকুলতা ও আবেগের অনুভূতিগুলো তাঁর গায়কীতে ফুটে উঠেছে।
রাজিয়া মুক্তি সম্পর্কে চিত্রপরিচালক দিগ্বিজয় চৌধুরী বলেন, যেকোনো শিল্পীর কণ্ঠের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্পষ্ট উচ্চারণ ও আবেগের যথাযথ প্রকাশ। তাঁর মতে, কাভার সংস্করণ দুটি শুধু পুরোনো গানের পুনর্নির্মাণ নয়; বরং মূল ভাব অক্ষুণ্ন রেখে নতুনভাবে শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপনের প্রয়াস। এর মাধ্যমে দুই বাংলার সংগীতপ্রেমীরা পুরোনো দিনের স্মৃতিতে নতুন করে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
রাজিয়া মুক্তি দীর্ঘদিন ধরে সুরপ্রধান ও মেলোডিনির্ভর গান নিয়ে চর্চা করছেন। এর আগে জি সিরিজ থেকে তাঁর ‘আমি একা’ ও ‘আমার ভিতর বাহির’ শিরোনামে দুটি মৌলিক গান প্রকাশিত হয়েছে। বেতার ও টেলিভিশনেও তাঁর অসংখ্য মৌলিক গান রয়েছে। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন।
কাভার সংস্করণ নিয়ে রাজিয়া মুক্তি বলেন, কালজয়ী গান দুটি নতুনভাবে গাওয়ার জন্য দাদা তাঁকে অনেক আগে থেকেই বলেছিলেন। প্রখ্যাত গীতিকার মোহিনী চৌধুরীর পরিবারের স্নেহ ও আশীর্বাদ পেয়ে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিল্পীর গানে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন। তিনিও চেষ্টা করেন প্রতিটি গান এমনভাবে শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরতে, যাতে সংগীতের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা অটুট থাকে। ভবিষ্যতেও আরও ভালো গান উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজিয়া মুক্তির এ অর্জনে আনন্দিত পাবনাবাসী। স্থানীয়দের মধ্যে তাঁর গান নিয়ে আলোচনা ও প্রশংসা চলছে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও যথাযথ সহযোগিতা পেলে এ শিল্পী আরও এগিয়ে যাবেন এবং দেশ-বিদেশে পাবনার সুনাম তুলে ধরবেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা