নকশার ব্যত্যয় ও পার্কিং সংকটে উৎসব সুপার শপকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এক্সেস রোডে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় এবং পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় উৎসব সুপার শপ কর্তৃপক্ষকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
একই সঙ্গে আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যে নকশাবহির্ভূত অংশ সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে হালিশহর এক্সেস রোড এলাকায় উৎসব সুপার শপের একটি আউটলেটে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করেন সিডিএর স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।
অভিযানে সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিডিএ সূত্র জানায়, অভিযানকালে ভবনটির অনুমোদিত নকশা পর্যালোচনা করা হয়। এতে নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণকাজের বেশ কিছু অসামঞ্জস্য এবং বাণিজ্যিক ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় পার্কিং সুবিধার ঘাটতি পাওয়া যায়। এ কারণে ভবন মালিককে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ না করলে দুই বছরের কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে।
সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন বলেন, অভিযানের সময় উৎসব সুপার শপ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদিত নকশা উপস্থাপন করতে পারেনি। পরিদর্শনে দেখা যায়, বাণিজ্যিক ভবন হওয়া সত্ত্বেও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পার্কিং সুবিধা নেই। কর্তৃপক্ষ রাস্তার জায়গা ব্যবহার করে গাড়ি পার্কিংয়ের কথা জানিয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নকশার ব্যত্যয়কৃত অংশ সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। সময়সীমার মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্মাণাধীন ভবনেও অভিযান একই এলাকায় আরেকটি নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে সড়কের জন্য নির্ধারিত জায়গা না ছাড়ার অভিযোগের সত্যতা পায় সিডিএ। পরে ভবনটির সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভবন মালিককে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
অনুমোদন না মেলায় রেস্টুরেন্ট সিলগালা অভিযানের অংশ হিসেবে একই এলাকার একটি রেস্টুরেন্টেও পরিদর্শন চালায় সিডিএর কর্মকর্তারা। ভবনটিতে রেস্টুরেন্ট পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে কি না এবং অনুমোদিত নকশা ও ব্যবহারবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে সেখানে যান তারা।
তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও রেস্টুরেন্টটির মালিক বা দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির দেখা পাননি কর্মকর্তারা। ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতিতে রেস্টুরেন্টটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ রয়েছে।
ভোরের আকাশ/রই