ক্ষুধার্ত কালিগঙ্গা নদী জামিলা'র শেষসম্বল টুকু কেড়ে নিল

পিরোজপুরে বর্ষা মানেই নদীপাড়ের মানুষের জন্য নতুন আতঙ্ক। সেই সাথে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উওোলনের ফলে কচা,বলেশ্বর, কালীগঙ্গা ও সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতি বছরই হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা।
বছরের পর বছর ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পে ঠাঁই নিয়েছে,আবার কেউ বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়েছেন। তবু স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ।
আকাশে মেঘ জমলেই উৎকণ্ঠা বাড়ে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের চাঁদকাঠী -- কলাখালী খেয়াঘাটের বাসিন্দা মৃত শাহেদ আলী শেখের স্ত্রী জামিলা বেগমের। বৃষ্টি নামার আগেই তিনি ছুটে যান বসতঘর সংলগ্ন কালিগঙ্গা নদীর পাড়ে। প্রতিবারই মনে শঙ্কা জাগে আর কতটুকু জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেল? কয়েক বছরের ধারাবাহিক ভাঙনে নদী এখন এসে দাঁড়িয়েছে তার বসতঘরের একেবারে পাশে।
প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেলা আর ভাগ্যের নির্মম পরিনতি নিঃস্ব জমিলা বেগমের পুরো জীবনটাই আজ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।এক সময়ে জামিলার স্বামী শাহেদ আলীর সবই ছিলো, ক্ষুদার্থ নদীর পেটে তাদের বহু সম্পদ ও জমি বিলীন হয়ে আজ নিঃস্ব তারা।
এখন শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই আছে জরাজীর্ণ একটি বসতঘর। ঘরের টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে ঘরের মেজে ভেসে যায়। ঝড় বৃষ্টি হলে যেকোনো সময় বসতঘরটি ভেসে যেতে পারে অপর দিকে নদী ভাংন্গনের আতংক তো আছেই। মাজে মাজে জোয়ারের পানিতে থৈ থৈ করে ঘরের মেজো।
জরাজীর্ণ বসতঘরে বসবাস করা জমিলা বেগম নানাবিধ রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে জীবন যুদ্ধে পার করছে প্রতিটি মুহূর্তো।চার কন্যা সন্তানের মধ্যে এক মেয়ে প্রতিবন্দী। সংসারের উপার্জন করার মতো কেউ নেই।বড় মেয়েও মেয়ের জামাইয়ের সামান্য আয়ে নিদারুন কষ্টে কাটে জমিলার প্রত্যহিক জীবন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু ঘরবাড়ি ভা'ঙে না, ভে'ঙে দেয় অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন আর নিরাপত্তার অনুভূতিও। এমন মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই মানবিক দায়িত্ব।
মানুষের পাশে মানুষ থাকুক—এই প্রত্যাশাই হোক সবচেয়ে বড় শক্তি।
ভোরের আকাশ/রই