জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাব সদস্য হত্যা মামলায় অভিযান জোরদার করে আরও এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭।
গ্রেফতার আসামির নাম আইয়ুব আলী প্রকাশ বাবুল সওদাগর (৫৩)। তিনি উপজেলার ছিন্নমূল ৮ নম্বর সমাজের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি।
র্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের হওয়া র্যাব সদস্য হত্যা মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় শুরু থেকেই তদন্ত ও অভিযান জোরদার করা হয়। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয় এবং নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, গ্রেফতার আইয়ুব আলী প্রকাশ বাবুল সওদাগর চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার লয়েল রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। এই তথ্য যাচাইয়ের পর র্যাব-৭ একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রোববার (২১ জুন) বিকেলে নবী মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হয়, যা মামলার তদন্তে সহায়ক হতে পারে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এর আগেও একাধিক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৮ জুন বিকেলে সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল ১ নম্বর সমাজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলী আকবরকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২০ জুন বিকেলে পৃথক আরেক অভিযানে মো. ইমরান নামে আরও একজন আসামিকে আটক করে র্যাব-৭।
র্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার পর থেকেই সংঘটিত অপরাধচক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং স্থানীয় সূত্রের সমন্বয়ে একের পর এক আসামিকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে ভূমি দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক অভিযানগুলো ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল করতে ধারাবাহিক নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
র্যাব-৭ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই আরও অগ্রগতি আসতে পারে।
ভোরের আকাশ/ র.ই