চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২
জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী ড. মু. মিজানুর রহমান তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
বুধবার ( ৪ জানুয়ারি) দুপুরে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ‘সমৃদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০২ আসন, কর্মমুখী জনপদ’ স্লোগান সম্বলিত এই ৫৫ দফা ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।
ইশতেহারে বরেন্দ্র অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান ও আধুনিক জনপদ হিসেবে এই তিন উপজেলাকে গড়ে তোলার একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ড. মিজানুর রহমান।
ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য, বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রধান সমস্যা পানি সংকট নিরসনে মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকাজে সেচ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল আম, বরই ও পেয়ারা সংরক্ষণ এবং বিদেশে রপ্তানির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সার সংকট দূরীকরণে সহজপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।
কর্মজীবী নারীদের জন্য কর্মবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, জনবহুল এলাকায় নারীবান্ধব স্যানিটেশন, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার ও নামাজের স্থান গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর ইশতেহারে। এছাড়া বিলুপ্তপ্রায় কুটির শিল্প পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যৌতুক ও বিবাহ বিচ্ছেদের মতো পারিবারিক সমস্যা নিরসনে সচেতনতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করা হয়েছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা, নার্সিং কলেজ স্থাপন এবং শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত বেকারদের দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বিশেষ করে আইসিটি প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং ও রেশম শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ভোলাহাটকে পৌরসভায় উন্নীত করা, রহনপুরে রেল বন্দর স্থাপন এবং পৌরসভাগুলোকে আধুনিক নগরায়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। নদী ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করার পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হিন্দু, বৌদ্ধ, সাঁওতালসহ সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণা শেষে ড. মিজানুর রহমান বলেন, “নির্বাচিত হলে আমি এই আসনকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব। প্রতিটি সরকারি দপ্তরে ঘুষমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে আগামী নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে এই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভোরের আকাশ/ র.ই