জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করার কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে দেওয়া হবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, লুণ্ঠিত ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া এবং জুলাই সানদের পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সোমবার দুপুরে স্থানীয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ১১ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনী পথযাত্রা ও জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় বক্তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান এবং জোটের মনোনীত প্রতীক ‘শাপলা কলি’তে ভোট দিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
দুপুর ১২টা থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন জোটের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর-৫ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করার কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে দেওয়া হবে না। জনগণের প্রকৃত মুক্তি ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই আমাদের এই লড়াই। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ নির্ধারিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের পথ তৈরি করেছে, তার পূর্ণতা দিতে জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন। শাপলা কলি প্রতীক আজ শোষিত মানুষের আশার আলো। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা সারমিন এবং কেন্দ্রীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. তরিকুল ইসলাম।
সভায় জামায়াতে ইসলামী ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে জোটের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। উপস্থিত ছিলেন: সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াত নেতা আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, পার্বতীপুর উপজেলা আমির ইউসুফ আলী, উপজেলা সেক্রেটারি আবু সায়েম শাহসহ উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের জামায়াত, ছাত্রশিবির ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যেই এই জোট গঠিত হয়েছে। গণভোটে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কেবল একটি দুর্নীতিমুক্ত ও ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সভা শেষে একটি বিশাল বর্ণাঢ্য পথযাত্রা পার্বতীপুরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
ভোরের আকাশ/এনএস