চাঁপাইনবাবগঞ্জ
সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আইনজীবী সমিতিতে অবরুদ্ধ সাংবাদিক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতি ভবনে একটি মামলার সালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে আইনজীবী ও বহিরাগতদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে উভয়পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারিতে আইনজীবী সমিতির ভবন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে ৬ আইনজীবীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ ৭ জনকে আটক করেছে।
এছাড়া তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আইনজীবীদের হাতে এক সাংবাদিক অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোনামসজিদ বন্দরে পাথরের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলার বাদী আইনজীবী সমিতির সদস্য মো. রাসেল আহম্মেদ রনি। আদালতের নির্দেশে গত রোববার বিকেলে আইনজীবী সমিতি ভবনে উভয়পক্ষকে নিয়ে এই সালিস ˆবঠক চলছিল।
বিবাদী পক্ষের এক ভুক্তভোগী যুবক মো. হাসানুল বান্না আকিব জানান, ৩৪ লাখ টাকার মতো একটি বড় অঙ্কের লেনদেন আগেই মীমাংসা হয়েছিল এবং মাত্র ১ লাখ টাকা বাকি ছিল। তবে স্ট্যাম্পে আরও ৭ লাখ টাকা পাওনা লিখে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিরোধ চরম রূপ নেয়।
অন্যদিকে আইনজীবী সমিতির দাবি, সালিস চলাকালীন কিছু বহিরাগত জোরপূর্বক মামলার বাদী আইনজীবী রাসেল আহম্মেদ রনির ¯^াক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। উভয়পক্ষই পাশে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে রড ও লোহার পাইপ নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার শিকার এক ভুক্তভোগী যুবক মো. হাসানুল বান্না আকিব জানান, তিনি ও তাঁর বড় ভাই বাবার কাছে গাড়ির চাবি নিতে আইনজীবী সমিতিতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন তাঁর বাবার খালাতো ভাইদের সাথে ঝামেলা চলছে এবং একপর্যায়ে তাঁর বড় ভাইয়ের কলার চেপে ধরা হয়। বাধা দিতে গেলে তিনকোনা আকৃতির একটি নেমপ্লেট দিয়ে তাঁর বাবার মাথায় আঘাত করা হয়, যার ফলে মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "আব্বুকে মারার প্রতিবাদ করলে আমাদের ওপর কয়েকজন মিলে হামলা করে। পরে আমাদের পরিচিত কয়েকজন স্ট্যাম্প নিতে এলে তাদেরকেও এই পক্ষে ভেবে একটি রুমে আটকে রাখা হয়। এরপর প্রায় দুই-তিনজন ভাড়াটে গুন্ডা এনে এসএস পাইপ ও রড দিয়ে আমাদের নির্মমভাবে পেটানো হয়। আমরা বারবার বসার অনুরোধ করলেও তারা শোনেনি। এমনকি পরে যখন পুলিশ আমাদের নিয়ে যাচ্ছিল, তখনও আইনজীবীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।"
আইনজীবী সমিতিতে মারামারির খবর পেয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'স্টার নিউজ'-এর প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান তুষারকে আইনজীবীরা একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেনকেও কয়েকজন আইনজীবী গালিগালাজ করে মারতে তেড়ে আসেন।
তবে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসিব সাংবাদিক অবরুদ্ধ করার ঘটনা অ¯^ীকার করে জানান, অন্য দুই সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি পারস্পরিক ছিল এবং পরে তাঁর উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, ঘটনার পর পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করা হয়েছে| এদের মধ্যে ৫ জন থানায় এবং ২ জন হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে|
রোববার গভীর রাতে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসিব বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার জমা দেন| আসামিদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৪ ন¤^র ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর দুলাল হোসেনও রয়েছেন।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ সোমবার দুপুরে জানান, আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে একটি এজাহার দেওয়া হলেও তাতে কিছু ভুলত্রুটি থাকায় তা সংশোধন করতে বলা হয়েছে। এই কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা (এফআইআর) রুজু হয়নি, তবে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটককৃত সাতজনকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে| মামলা রুজু হওয়া মাত্রই আটককৃতদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই