শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দৃষ্টি হারিয়ে থেমে যাননি, অটো রিকশায় ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৪ এপ্রিল ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

জন্ম থেকেই এক চোখে দৃষ্টি ছিল না। তবুও অন্য চোখের আলোয় পৃথিবী দেখেই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন চল্লিশোর্ধ্ব মো. আল আমিন মোল্লা। কিন্তু হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় সেই শেষ আলোটুকুও নিভে গেলে যেন অন্ধকারে ডুবে যায় তার পুরো পরিবার। স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের এই পরিবার তখন যেন দিশেহারা এক নৌকা-অজানা স্রোতে ভেসে চলা।

কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আল আমিনের জীবনে তখন নেমে আসে কঠিন বাস্তবতা। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও দৃষ্টি হারিয়ে কর্মক্ষমতা হারান তিনি। কিশোর ছেলের মাদ্রাসার পড়াশোনাও থেমে যায় অর্থাভাবে। জীবিকার তাগিদে একটি গ্যারেজে কাজ শুরু করলেও তাতে সংসারের অভাব ঘুচছিল না-অনেক সময় না খেয়ে দিন কাটাতে হতো তাদের।

ঠিক এমনই এক দুঃসময়ে আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ায় একটি মানবিক সংগঠন-“কালীগঞ্জ কল্যাণ সংস্থা”। প্রবাসী এক সদস্যের মাধ্যমে সংগঠনের সঙ্গে পরিচয় হয় আল আমিনের। তার অসহায় জীবনের গল্প শুনে এগিয়ে আসে সংগঠন।

সংগঠনের আর্থিক সহায়তায় আল আমিনকে উপহার দেওয়া হয় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। নতুন এই জীবিকার মাধ্যমেই আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি। দৃষ্টি না থাকলেও এখন তার সামনে আছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত-পরিবারকে স্বাবলম্বী করার দৃঢ় প্রত্যয়। নিজে চলাতে না পারলেও ভাড়া দিয়ে চলবে তার সংসার।

এছাড়াও একই দিনে উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামের রানু বেগমের ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে কালীগঞ্জ কল্যাণ সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অটোরিকশার চাবি ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মু. আতিকুর রহমান ভূঞার সভাপতিত্বে এবং কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট রাশিদুল হাসান রুবেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা মো. মুর্শিদ উজ্জামান, ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক, কাজী জাহেদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মাশহুদুর রহমান সাজেদ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি নূর আক্তার, যুগ্ম সম্পাদক রফিক সরকার, কার্যনির্বাহী সদস্য কাজী গোলাম রাব্বানী রোমান, মো. আক্তারুজ্জামান, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মুশাহেদা মুশি, সদস্য দুলাল মোড়লসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

মানবিক সহায়তার এই উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারকেই নয়, বরং সমাজে সহমর্মিতা ও মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে-যেখানে অন্ধকারের মাঝেও জ্বলে ওঠে আশার আলো।

ভোরের আকাশ/ র.ই

 

মু. আতিকুর রহমান ভূঞাঅটো চালক

শেয়ার করুন: