গাইবান্ধার চরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত

"জলবায়ু অভিঘাত পেরিয়ে গ্রামীণ নারী ক্ষমতায়ন ও সমৃদ্ধির পথে "এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য খাটিয়ামারী চরে কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি (সিআরইএ) প্রকল্পের আওতায় বর্ণাঢ্য র্যালি, কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
র্যালিতে চরাঞ্চলের কিশোর-কিশোরী, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তাঁদের হাতে জলবায়ু সচেতনতা ও নারীর অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন বার্তা সংবলিত প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার দেখা যায়। র্যালি শেষে উক্ত স্থানে কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিআরইএ প্রকল্পের সমন্বয়কারী লাভলী খাতুনের পরিচালনায় এবং ফজলুপুর ইউনিয়ন নারী দলের সদস্য সহিতন বেগমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ইউপি চেয়ারম্যান আনার আলী মণ্ডল, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার প্রতিনিধি রোকন মিয়া ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রতিনিধি ইউনিয়ন সমাজকর্মী জামাল উদ্দিন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, একজন গ্রামীণ নারী প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত গৃহস্থালির সেবা মূলক কাজ ও কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকলেও তাঁদের এই শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। পরিবার, সমাজ ও কৃষি অর্থনীতিতে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও তাঁদের শ্রম অনেক ক্ষেত্রেই অদৃশ্য থেকে যায়। জলবায়ু সহনশীল কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে গ্রামীণ নারীর ভূমিকা অপরিসীম। নারীর এই অবদান ও শ্রমের স্বীকৃতি ছাড়া কৃষির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সভায় বক্তারা গ্রামীণ নারীর অমূল্যায়িত গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন, পরিবার পর্যায়ে পুরুষ ও বালকদের গৃহস্থালি কাজে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জাতীয় কৃষি অর্থনীতিতে নারীর অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।
এ ছাড়া জাতীয় কৃষিনীতি-২০১৩ অনুযায়ী কৃষি উৎপাদন ও বিপণনে নারীর অংশগ্রহণ এবং আয়বর্ধক সুযোগ সৃষ্টি, বিশেষ করে চরাঞ্চলের নারী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কৃষিপণ্য ক্রয় ও বিপণনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সম্পত্তিতে নারীর অধিকার বিষয়ক আইন যুগোপযোগী করা, কৃষিতে নারীর অবদান তুলে ধরতে গণমাধ্যম ও সরকারের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, নারী কৃষকদের জন্য সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং শ্রমবাজারে নিরাপদ প্রবেশাধিকার ও সমমজুরি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, গ্রামীণ নারীর শ্রম, মেধা ও অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও নারীর ক্ষমতায়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
ভোরের আকাশ/রই