শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

অসহায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন "হৃদয়ে মঠবাড়িয়া ফাউন্ডেশন"

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান নয়, শিক্ষা মানুষের মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করে-এই কথাটিই যেন আবারও প্রমাণ করলেন যুবদলের সাবেক সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এ আর মামুন খান।

আর্থিক অনটনের কারণে এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফি ও কোচিং ফি দিতে অক্ষম এক মেধাবী বোনের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি।

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী। পরিবারে চরম আর্থিক সংকট। বাবা অসুস্থ, সংসারের একমাত্র আয়ের পথ প্রায় বন্ধ।

এমন বাস্তবতায় পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফি ও কোচিং ফি জোগাড় করা হয়ে উঠেছিল প্রায় অসম্ভব। মেয়েটির চোখে তখন স্বপ্ন ছিল, কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভয়ংকর কঠিন। ঠিক এই সময়েই মানবিক হাত বাড়িয়ে দেন এ আর মামুন খান।

বিষয়টি জানতে পেরে কোনো রকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তিনি নিজ উদ্যোগে তার নিজ সংগঠন "হৃদয়ে মঠবাড়ীয়া ফাউন্ডেশন" এর আব্দুল্লা আল অভির মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষার সম্পূর্ণ রেজিস্ট্রেশন ফি ও কোচিং ফি পরিশোধ করেন বিদ্যালয়ে।

ফলে আর্থিক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে পারছে সেই শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সহায়তা গ্রহণের সময় শিক্ষার্থীর চোখে ছিল কৃতজ্ঞতার জল। শিক্ষার্থী জানান, এই সহায়তা না পেলে হয়তো আমার পড়াশোনাই বন্ধ হয়ে যেত। আল্লাহ এ আর মামুন খানকে ভালো রাখুন।

এ বিষয়ে এ আর মামুন খান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে যাবে শুধু টাকার অভাবে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আজ যদি আমরা একজনকে দাঁড়াতে সাহায্য করি, আগামী দিনে সে হয়তো সমাজের জন্য আরও দশজনের পাশে দাঁড়াবে। এটিই আমার বিশ্বাস।

তিনি আরও বলেন, সমাজে অনেক নীরব মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা শুধু আর্থিক সংকটের কারণে পিছিয়ে পড়ছে। রাষ্ট্র, সমাজ ও বিত্তবানদের সম্মিলিত উদ্যোগেই এই বাধা দূর করা সম্ভব।

স্থানীয় শিক্ষকমণ্ডলীও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, আমরা অনেক সময় চাইলেও সব শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দিতে পারি না। এমন মানুষের সহযোগিতা আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।

এ আর মামুন খান দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করাই তার পরিচয়। এর আগেও অসহায় রোগীর চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষার্থীদের বই–খাতা প্রদান, দুর্যোগকালে ত্রাণ বিতরণসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাকে সক্রিয় দেখা গেছে।

এই মানবিক উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করে-রাজনীতি যদি মানবতার সেবায় যুক্ত হয়, তবে সমাজ বদলাতে বেশি সময় লাগে না। আর্থিক অসচ্ছলতার অন্ধকারে যখন একটি মেয়ের স্বপ্ন নিভে যেতে বসেছিল, তখন এ আর মামুন খানের সহায়তায় সেই স্বপ্ন আবার আলো দেখছে।

আজ সেই শিক্ষার্থী নতুন করে সাহস নিয়ে পড়ার টেবিলে বসছে। তার চোখে এখন ভয় নয়, আছে প্রত্যাশা—ভালো ফল করে একদিন সমাজের জন্য কিছু করার। এই গল্প শুধু একটি সহায়তার নয়, এটি মানবিক রাজনীতির এক অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়।

ভোরের আকাশ/নি. ব

এসএসসি পরীক্ষার্থী

শেয়ার করুন: