যমুনায় ইলিশ রক্ষার অভিযানে জব্দ ১০ হাজার মিটার জাল, ধ্বংস শকযন্ত্র

প্রজনন মৌসুমে যমুনায় মা ইলিশের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে অভিযান চালিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। যমুনা নদীতে অবৈধ মাছ শিকারের বিরুদ্ধে পরিচালিত এ অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ১০ হাজার মিটার ইলিশ ধরার জাল, বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারের সরঞ্জাম এবং প্রায় ১৫ কেজি ইলিশ। পরে নিষিদ্ধ জাল ও শিকারি সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়। আর জব্দ করা মাছ তুলে দেওয়া হয় স্থানীয় তিনটি এতিমখানায়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে যমুনা নদীতে দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়। রাজশাহী বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়ার নেতৃত্বে এতে সহযোগিতা করে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ।
অভিযানকালে যমুনায় অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত জাল ও বৈদ্যুতিক শক প্রয়োগের সরঞ্জাম জব্দ করেন কর্মকর্তারা। পরে উপজেলার কালিতলা ঘাটে জনসম্মুখে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা প্রায় ১৫ কেজি ইলিশ স্থানীয় তিনটি এতিমখানায় বিতরণের মাধ্যমে অভিযানের উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত হয় মানবিক উদ্যোগও।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান সরকার, রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য পরিচালকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সেলিম আক্তার, বগুড়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক শারমিন আক্তার, সারিয়াকান্দি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুর্শিদা খাতুন এবং বগুড়া সদর উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজুল হক।
এ ছাড়া সারিয়াকান্দি থানা পুলিশের সদস্য, মৎস্য দপ্তরের কর্মচারী ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা অভিযানে অংশ নেন।
মা ইলিশের প্রজননকাল নির্বিঘ্ন রাখতে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা জরুরি। এ সময়ে নিষিদ্ধ জাল ও বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করে মাছ ধরলে ইলিশের বংশবিস্তার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীর অন্যান্য জলজ প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, নদীতে নিয়মিত নজরদারি এবং নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ।
যমুনার মৎস্যসম্পদ রক্ষা, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রজনন মৌসুমে অবৈধ শিকার ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোরের আকাশ/ইউএম