টেন্ডারের বছর পেরোলেও শেষ হয়নি সড়ক সংস্কার
রায়গঞ্জে খোয়া বিছিয়ে লাপাত্তা ঠিকাদার, ধুলা-গর্তে চরম দুর্ভোগ

টেন্ডারের এক বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানা কার্যালয় থেকে ভুইয়াগাতী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ। প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ করে তিন কিলোমিটার সড়কে খোয়া বিছিয়েই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সংস্কারকাজ। এতে খোয়া সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো সড়কজুড়ে উড়ছে ধুলাবালি। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও যানবাহনের চালকসহ প্রতিদিন চলাচলকারী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ, রায়গঞ্জ থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রায়গঞ্জের সঙ্গে ভুইয়াগাতীসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রায়গঞ্জ থানা কার্যালয় থেকে ভুইয়াগাতী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে ইটের খোয়া বিছানো রয়েছে। দীর্ঘদিন যানবাহন চলাচলের ফলে কোথাও খোয়া সরে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও আবার সড়ক অসমতল হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় প্রচুর ধুলাবালি উড়ছে। এতে সড়কের পাশের বসতবাড়ি ও কৃষিজমিও ধুলায় ঢেকে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুলতান মাহমুদ শুভ বলেন, ‘রাস্তার পাশেই আমাদের জমি রয়েছে। অতিরিক্ত ধুলাবালির কারণে জমিগুলোতে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় উপজেলা পরিষদ, থানা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াত করতেও মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন ও ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ দেখেও দেখছে না। আগামী সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করব।’
স্থানীয় অটোরিকশাচালক মো. শাহজালাল ও আব্দুস সালামসহ একাধিক চালক বলেন, ‘সড়কের অর্ধেক কাজ ফেলে রেখে সবাই উধাও হয়ে গেছে। পুরো রাস্তায় ধুলা আর খানাখন্দ। রোগী ও শিশুদের নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, টেন্ডারের নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক।’ কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে এবং কাজের বর্তমান অগ্রগতি কী—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বিস্তারিত জেনে আপনাকে জানানো হবে।’ তবে পরে তিনি আর কোনো তথ্য জানাননি।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, ‘কাজটি উপজেলা এলজিইডি অফিসের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। কোথায় সমস্যা হয়েছে, সেটা তারা বলতে পারবেন। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করতে বলব।’
এদিকে, সড়ক সংস্কারের দায়িত্বে থাকা সাব-ঠিকাদার আব্দুল কাদেরের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে প্রতিবারই তিনি কল কেটে দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সড়কের বাকি সংস্কারকাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার কারণ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভোরের আকাশ/আ.র