শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহে মাদক-ছিনতাই প্রতিরোধে যৌথ অভিযান

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

ময়মনসিংহ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। 

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে অংশ নেয় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং ৩ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

শনিবার নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ব্যস্ততম মোড়, জনসমাগমপূর্ণ এলাকা এবং অপরাধপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন স্থানে একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুল হক। তাদের সঙ্গে ছিলেন ৩ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জালাল উদ্দিন, এসআই মো. সোহেল রানা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবার, চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সমন্বিত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই, জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয় এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধে তথ্যভিত্তিক পুলিশিং কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, চিহ্নিত অপরাধী এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্যদের ওপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম বৃদ্ধির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অভিযান চলাকালে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং পথচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সাধারণ জনগণকে অপরাধ প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়। পুলিশ বলছে, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।

জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, “ময়মনসিংহকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত নগরীতে পরিণত করতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক, চুরি, ছিনতাই কিংবা কিশোর গ্যাং কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে পুলিশের এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন নগরবাসী। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত টহল ও যৌথ অভিযান পরিচালিত হলে অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি জনমনে আস্থা সৃষ্টি করবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

কুষ্টিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাক উল্টে খাদে, চালক ও সহকারী নিহত

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসম্পৃক্ততাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নাগরিকদের যেকোনো অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, জনগণের সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বসবাসযোগ্য ময়মনসিংহ গড়ে তোলা সম্ভব।

ভোরের আকাশ/ র.ই

যৌথ অভিযানমোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম

শেয়ার করুন: