শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শুষ্ক মৌসুমে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকায় ভাঙন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

শুষ্ক মৌসুমে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকার দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে নদীতে ধসে পড়েছে বেশ কিছু অংশ। নদীতে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের কারনে পানির স্রোতে নদীর পশ্চিম পাড়ে তীর সংরক্ষন এলাকায় আঘাত হানায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অসময়ের এই ভাঙন নদী পাড়ের মানুষের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে এতে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। জিও ব্যাগ ভর্তি বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কাজীপুর উপজেলার কাজীপুর মৌজায় বালু মহাল হাজারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী একটি মহল শুস্ক মৌসুমে কাজীপুর ইকোপার্ক এলাকা, পলাশপুর ঘাট, মেঘাই ঘাট, ঢেকুরিয়া এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এতে নদীর বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানির স্রোত এসে আঘাত হানছে নদীর পশ্চিম পাড়ে তীর সংরক্ষন এলাকায়। এতে শুক্রবার রাতে পলাশপুর ঘাট এলাকায় দুটি স্থানে বেশ কিছু এলাকা নদীতে ধসে পড়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে কাজীপুরে যমুনা নদীর পশ্চিম অংশে তীর সংরক্ষন কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাথরের ব্লক আর বালির বস্তা দিয়ে নদীর পশ্চিম তীর বেঁধে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে কাজ শেষ হয়। চলতি শুস্ক মৌসুমে শুক্রবার রাতে দুটি স্থানে বেশ কিছু অংশ নদীতে ধসে পড়ে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বাঁধ ভাঙা আতংক বিরাজ করছে। হুমকীর মধ্যে পড়েছে মেঘাই বাঁধ, ফসলী জমি সহ বেশ কিছু স্থাপনা। বর্ষা মৌসুম আসার আগেই যমুনা নদীর পশ্চিম তীর সংরক্ষন এলাকা ধসে যাওয়ায় তারা এখন শঙ্কিত।

সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, কাজীপুরে প্রায় ৪০টি বালুর পয়েন্ট আছে। এসব পয়েন্ট ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। সরকার পতনের পর এসব বালুর পয়েন্ট এখন, বিএনপি,  ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিদিন এসব বালুর পয়েন্ট থেকে শত শত ট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে। বালু বিক্রির বড় একটি অংশ যাচ্ছে বিএনপি নেতাদের পকেটে। অথচ বিএনপির কোন নেতার নামে বালু মহাল ইজারা নাই।

পলাশপুর গ্রামের তারা ভানু বলেন, জমিজমা যা ছিলো তা অধিকাংশ নদী মধ্যে চলে গেছে। যাওয়ার কোন জায়গা নাই। নদীতে তো এখন বেশি পানি নাই। তারপরও গত শুক্রবার রাতে দুই জায়গায় ভেঙে গেছে। সারা বছর এই এলাকা থেকে বালু তুলছে। কেউ নিষেধ করার লোক নাই।

পলাশপুর ঘাট এলাকার কোরবান আলী বলেন, আমার বাড়ির সামনে থেকে সারা বছরই বালু তোলা হয়েছে। যতটুকু জানি এই এলাকায় কোনা বালু মহাল হজারা নাই। তারপরও বালু তোলা হলো কেউ বন্ধ করলো না। গতরাতে যেভাবে নদীর তীর নদীতে ধসে পড়লো তাতে মনে হচ্ছে এবার আমার বাড়ি আর থাকবে না।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মোখলেছুর রহমান জানান, ধসে যাওয়া স্থানে বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে। আতংক হওয়ার কিছু নাই। নদীতে বৈধ ও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন হয়। যারা অবৈধ ভাবে বালু তুলছেন আমরা জানতে পারলে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দিচ্ছ। বাঁধের ক্ষতি করে কেউ বালু তুলতে পারবে না। নদীতে আমাদের নজরদারি রয়েছে।

এ বিষয়ে কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আইন হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, বাঁধ, গ্যাস পাইপ লাইন ও ব্রীজ এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না। এসব প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটার দুর থেকে বালু উত্তোলন করতে হবে। আমরা বলেছি ইজারাকৃত এলাকার বাইরে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি। জরিমানা করেছি। আমরা কাউকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করতে দেবো না। সড়কের ভিতর দিয়ে পাইপ বসানোর অনুমোদন দিয়েছে সড়ক বিভাগ। কেন দেওয়া হয়েছে এটি জানতে সড়ক বিভাগকে আমরা চিঠি দিয়েছি।

ভোরের আকাশ/এনউব

আতঙ্কে নদী পাড়ের মানুষ

শেয়ার করুন: