চাঁপাইনবাবগঞ্জে কাল থেকে শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হাম-রুবেলা নির্মূলের লক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন।
এই কর্মসূচির আওতায় জেলার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ২ লক্ষ ১ হাজার ৮৯৭ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সিভিল সার্জন ডাঃ সাহাব উদ্দিন জানান, গত ৫ তারিখ থেকে সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট এবং পৌরসভা এলাকায় টিকাদান শুরু হয়েছিল, যেখানে অর্জনের হার প্রায় ৯৪ শতাংশ। আগামীকাল থেকে নাচোল এবং গোমস্তাপুর উপজেলায় এই কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে।
পুরো জেলায় ১১ দিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইন চলবে, যার মধ্যে ৮ দিন কমিউনিটি পর্যায়ে এবং ৩ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিকা প্রদান করা হবে।
সদর উপজেলা: ৫২,৯১০ জন,শিবগঞ্জ: ৭৩,০৭৭ জন, গোমস্তাপুর: ৩৫,৩২০ জন,নাচোল: ১৪,৯৬২ জন, ভোলাহাট: ৯,৪২৫ জন,পৌরসভা এলাকা: ১৬,২০৩ জন।
জেলায় ৫টি স্থায়ী কেন্দ্র (সদর হাসপাতাল ও ৪টি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স) এবং ১,১৪৯টি অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে এই টিকা দেওয়া হবে।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে সদর উপজেলার সুন্দরপুর ও শাহজাহানপুরে এবং শিবগঞ্জের দুর্লভপুর, শ্যামপুর ও মনাকষায় সংক্রমণের হার বেশি। সিভিল সার্জন বলেন, "বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী কোনো এলাকায় ৩ জন রোগী পাওয়া গেলে সেটিকে 'আউটব্রেক' ঘোষণা করা হয়।
সদর ও পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে এমন পরিস্থিতি বিদ্যমান।" আক্রান্ত শিশুদের ঘরে আইসোলেশনে রাখা এবং শতভাগ ভিটামিন-এ ক্যাপসুল নিশ্চিত করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডাঃ সাহাব উদ্দিন আরও বলেন, "৯৫ শতাংশ কাভারেজ নিশ্চিত করতে পারলে 'হার্ড ইমিউনিটি' তৈরি হবে। তবে টিকা দেওয়ার সাথে সাথেই এটি হয় না, অন্তত ২-৩ সপ্তাহ সময় লাগে। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে সংক্রমণের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারব।"
মতবিনিময় সভায় টিকাদান কার্যক্রমের বিস্তারিত গুরুত্ব তুলে ধরেন শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. কামাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক, তাই শতভাগ টিকাদান নিশ্চিতের বিকল্প নেই। সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসেন শাহনেওয়াজ, টেলিভিশন জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল আলমসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে শিশুকে টিকা দিয়ে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করেন। তাদের মূল বার্তা "একটি শিশুও যেন টিকার বাইরে না থাকে।"
ভোরের আকাশ/ র.ই