কক্সবাজারে বিশেষ অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ২৩

কক্সবাজার শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চুরি-ছিনতাই ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চোর-ছিনতাইকারী, মাদকসেবী, ওয়ারেন্টভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিসহ মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোনসহ বিভিন্ন এলাকায় চোর ছিনতায় ও মাদক সেবীদের আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ, এই সময় কক্সবাজার সদর মডেল থানার আওতাধীন কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করে, তাদের মধ্যে ৫ জন চোর/ছিনতাইকারী, ১১ জন মাদকসেবী, এবং ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ৫ জন এবং নিয়মিত মামলার ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছেন শহরের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকসেবনের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজরদারি ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সদর মডেল থানা পুলিশের পৃথক টিম বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে সন্দেহভাজন ও মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ৫ চোর/ছিনতাইকারী হলেন- গোলদিঘীর পাড়, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাইম বিন জিহান (২০), ঘোনার পাড়া এলাকার মৃত জাকির হোসেনের ছেলে শাহেদ মনি (২২), শাহারপাড়া এলাকার সিদ্দিক আহাম্মদের ছেলে আলী আহাম্মদ (২৫), লাইট হাউজ পাড়া এলাকার সৈয়দ আলমের ছেলে পারভেজ মোশারফ (২৭), সোনা মিয়া প্রকাশ তারেকের ছেলে আশ্রাফুল ইসলাম ছাদমুন (২০)।
মাদকসেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জন হলেন- কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়া এলাকার ১নং ওয়ার্ডের মো. আলমের ছেলে রায়হানুল ইসলাম (২২), পটিয়া ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইলিয়াছের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন রানা (২২), মধ্যম কলাতলী এলাকার মোস্তাক আহম্মদের ছেলে মুর্শেদুল আলম (২৮), কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়া এলাকার মো. সেলিমের ছেলে মো. রিয়াজ (২৪), কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়া এলাকার মৃত সিকান্দরের ছেলে মো. আব্বাস (৪০), দক্ষিণ কলাতলী এলাকার মৃত হামিদুল হকের ছেলে মুবিনুল হক মুবিন (২৭), বিসিক উঠুনী, মুহুরী পাড়া, ৪নং ওয়ার্ড এলাকার ঈমাম হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), ছত্তর ঘোনা, পাহাড়তলী, ৭নং ওয়ার্ড এলাকার মো. রফিকের ছেলে মো. তারেক (২৪), পাহাড়তলী, ৭নং ওয়ার্ড এলাকার আব্দুর শুক্কুরের ছেলে আবুল কাশেম (২০), পাহাড়তলী ৭নং ওয়ার্ড এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে মো. শাহিন (২০), খড়িলাছড়ি ৪নং ওয়ার্ড রামু এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে আজিজুল হক (৪০) তাদের গত রাতে পুলিশের অভিযানে মাদকের আস্তানায় এবং মাদক ডেরায় তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানায়।
আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত ৫ আসামিসহ গ্রেপ্তারকৃত ৭ জন হলেন- শুকনাছড়ি এলাকার বাসিন্দা, বর্তমানে চন্দ্রিমা-আমগাছতলা এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী আমিনা বেগম (৪৫), কালুর দোকান পূর্ব টেকপাড়া এলাকার হারুন রশিদের ছেলে নুরুল ইসলাম, পূর্ব হামজার ডেইল, ৬ নম্বর ওয়ার্ড, খুরুশকুল এলাকার আবুল কালামের ছেলে নুরুল ইসলাম প্রকাশ তৌহিদুল ইসলাম (২০), দক্ষিণ ডেইলপাড়া, খুরুশকুল এলাকার মোক্তার আহমদের ছেলে জাবেদ উদ্দিন (২৭) এবং খরিকুল এলাকার মৃত আইয়ুবের ছেলে মো. ইউনুছ (২৭)। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, নিয়মিত মামলার দুই আসামিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- তেলিপাড়া, পদুয়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে সৈকতপাড়া, ১২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার আকতার কামালের ছেলে জিয়াবুল হক (৩২) এবং বিজিবি ক্যাম্প এলাকার আব্দুস ছালামের ছেলে এনায়েতুর রহমান ওরফে নয়ন (২৮)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত জিয়াবুল হক ও এনায়েতুর রহমান ওরফে নয়নের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীর জানান, কক্সবাজার শহর ও সদর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চুরি-ছিনতাই, মাদক, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান বিশেষ করে যেসব এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রবণতা রয়েছে, সেসব এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। কক্সবাজার শহর ও সদর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। চুরি-ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও সেবন, পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও অপরাধ সম্পর্কে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।