শিরোনাম
হত্যা করা হয়েছে তাহসিফ সাউরিকে, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত পুলিশমাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের আন্দোলনের আহ্বান রাষ্ট্রপতিররাজধানীবাসীর জন্য সুখবর, ৬ রুটে একক কোম্পানির বাস চালু হচ্ছে রবিবাররোববার নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরাফ্যাসিবাদ উত্থানের পথ বন্ধ করতে রাজনৈতিক ঐক্যই বেশি প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপেগাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাআশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপহত্যা করা হয়েছে তাহসিফ সাউরিকে, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত পুলিশমাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের আন্দোলনের আহ্বান রাষ্ট্রপতিররাজধানীবাসীর জন্য সুখবর, ৬ রুটে একক কোম্পানির বাস চালু হচ্ছে রবিবাররোববার নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরাফ্যাসিবাদ উত্থানের পথ বন্ধ করতে রাজনৈতিক ঐক্যই বেশি প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপেগাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাআশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপ

সরকার ক্রসফায়ার শুরু করলে বিএনপির একটা লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না: হাসনাত

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘তারেক রহমানকে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ নামক গাড়িটি ইঞ্জিন নষ্ট করে দিয়েছে। তাই রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশ সঠিকভাবে চলতে পারবে না।’

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যশোর শহরের মুড়লি মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় এসব কথা বলেন ‍তিনি।

সরকারের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপি সরকার, আপনারা যদি ক্রসফায়ার দেওয়া শুরু করেন, তাহলে আপনাদের দলের একটা লোককেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ ক্রসফায়ার দিতে হলে চাঁদাবাজদের দিতে হবে, টেন্ডারবাজদের দিতে হবে। যারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা নেয়, যারা চাকরির কথা বলে ঘুষ নেয়, তাদের ক্রসফায়ার দিতে হবে। আর পুলিশ যখন এই ক্রসফায়ার দেবে, তখন আপনাদের নিজ দলের ব্যক্তিদেরই দিতে হবে। বিএনপির সবাই চাঁদাবাজি করে না- এটা যেমন সত্য, আবার যারা চাঁদাবাজি করে তারা প্রত্যেকেই বিএনপি, এটিও তেমন সত্য।’

সম্প্রতি দেশে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আজ এমন এক পরিস্থিতিতে আপনাদের সামনে কথা বলতে এসেছি, আমরা দেখতে পেয়েছি বাংলাদেশের প্রত্যেকটা প্রান্তে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে। যেখানে আমাদের মন খারাপ করার অধিকার নেই, যেখানে আমরা নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে কথা বলি, নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলি, তখন আমরা দেখতে পাই বিএনপি সরকার পুলিশ দিয়ে বাসা থেকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায়।’

ময়মনসিংহে সাথী আক্তার নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে পুলিশ বাসা থেকে নিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই নারী বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভুল করেছেন বলেছেন। বিএনপিকে ভোট দেওয়া তার উচিত হয়নি বলেছেন। তিনি ফেসবুক লাইভে এসে এই বক্তব্য দেওয়ার পর বাসা থেকে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা এমন এক সময়ে কথা বলছি, যখন প্রতিবাদ করলে আইজিপি আমাদের ক্রসফায়ারের ভয় দেখান।’

কর্মসংস্থান সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছেলেরা পড়াশোনা শেষ করে চাকরির আশায় ঘরে ঘরে যেতে হয়, দুয়ারে দুয়ারে ফিরতে হয়, কিন্তু চাকরি নেই। আমরা দেখলাম, জাপান থেকে ফিরে এসে সরকার একধরনের অসত্য তথ্য প্রচার করলো। জাপান নাকি এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু জাপান সরকার বললো, তাদের সঙ্গে এমন কোনও চুক্তি হয়নি।’

মালয়েশিয়া সফর নিয়েও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে ফিরে এসে বলা হলো, দুই লাখ কর্মসংস্থান করা হবে। কিন্তু মালয়েশিয়া বললো, এমন কোনও চুক্তি হয়নি। দেশের মানুষ ভাত চায়, কর্মসংস্থান চায়, নিরাপদে বাঁচতে চায়। বিএনপি সরকার, আমাদের বাঁচতে দিন, আমাদের কর্মসংস্থান দিন। না হলে দেশের জনতা আবার রাস্তায় নেমে আসবে।’

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমাদের বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কার করা হবে। কিন্তু কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যে, বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানির লোকদের এনে সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হিসেবে বসানো হচ্ছে। অথচ এই ব্যাংকগুলো ঋণখেলাপিদের কারণে সংকটে পড়েছে। ব্যাংকগুলোকে আবার ঘুরে দাঁড় করানোর কোনও প্রকল্প এই বিএনপি সরকারের নেই।’

আরও পড়ুন

মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের আন্দোলনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘জনাব তারেক রহমান এসে বলেছিলেন, ‘হি হ্যাজ এ প্ল্যান’। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, তার এমন পরিকল্পনা যেখানে নেতার হাতে কর্মীকে খুন হতে হয়। এমপির ছেলের হাতে কর্মীকে খুন হতে হয়। নিজের দলের হাতে নিজের দলের নেতাকর্মীদের খুন হতে হয়। এই ধরনের মাস্টারপ্ল্যান আমরা চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম দেশ গড়ার পরিকল্পনা। কিন্তু দেখতে পেলাম, বিএনপির কোনও পরিকল্পনাই নেই।’

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, নায়েবে আমির হামিদ হোসেন আজাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম প্রমুখ।

ভোরের আকাশ/এনএস

শেয়ার করুন: