ফরিদগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে ৫০ গ্রামের মানুষের যাতায়াত, দুর্ভোগ

নির্মাণের তিন দশক পার হলেও হয়নি কোনো সংস্কার। পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে পড়া পিলারে কোনোমতে টিকে আছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ডাকাতিয়া নদীর ওপর কাটাখালী সেতুটি।
একপ্রান্তে পোয়া আর অপরপ্রান্তে চররামপুরসহ আশপাশের অন্তত ৫০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই জরাজীর্ণ সেতুটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে হচ্ছে অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনগুলোকে। সামান্য ভারী যানবাহন উঠলেই কেঁপে ওঠে পুরো সেতু। চরম আতঙ্ক আর দুর্ভোগ নিয়ে প্রতিদিন পারাপার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের। স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প কাঠের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে সেই কাজও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন জানান, "আমাদের কাটাখালি ব্রিজটা দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত। এপার ও ওপারের যাতায়াতের খুব বিঘ্ন ঘটছে। দিন কিংবা রাত সব সময় অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে পারাপার হতে হয়। জরাজীর্ণ ব্রিজ, আমাদের কিছু লোক কাঠ দিয়ে পারাপার হয় কিন্তু খুব ঝুঁকি। একটি মোটরসাইকেল গেলে ব্রিজ খুব কাঁপাকাপি শুরু হয়। মানুষকে খুব ভয়-ভীতির মধ্যে দিয়ে থাকতে হয়। আমরা শুনেছি সরকারিভাবে টেন্ডার হয়েছিল এবং কাজও শুরু হয়েছিল কিন্তু শুরু হওয়ার সাথে সাথেই আবার বন্ধ হয়ে যায়। সরকারের কাছে আকুল আবেদন, দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ করে দিলে আমাদের এই দুপারের মানুষের ভোগান্তি দূর হবে।"
অপর বাসিন্দা আব্দুল কাদির বলেন, "অনেকদিন যাবত ব্রিজটি এভাবেই অবহেলিত দেখছি। মানুষ গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে পারে না, পায়ে হেঁটে চলতে গেলেও ভয় পায় কখন যেন ভেঙে পড়ে—এই আতঙ্ক নিয়ে চলতে হয়। সরকার যদি দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ করে দেয়, তাহলে হাইমচর-ফরিদগঞ্জের মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। আমরা শুনেছিলাম টেন্ডার হয়েছে, কাজও কিছুটা শুরু হয়েছিল কিন্তু এখন বন্ধ কেন জানি না। তিন-চার মাস আগে বিকল্প হিসেবে একটি কাঠের সেতু করার জন্য কিছু পিলার গেড়েছিল, কিন্তু পরে আর কোনো কাজ হয়নি। আমরা চাই দ্রুত যেন নতুন সেতুটি নির্মাণ করে দেওয়া হয়।"
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. আল-আমিন জানান, ৩৫ বছরের পুরনো এই ব্রিজটি গত ৫ থেকে ৬ বছর পূর্বে থেকে বিভিন্ন অংশ দিয়ে ভাঙ্গা শুরু করেছে। কিছুদিন পূর্বে দেখেছিলাম কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে আবার বন্ধ হয়ে গেল কেন বলতে পারলাম না। এখন দ্রুত এই ব্রিজটি করা প্রয়োজন।
স্থানীয় এক গাড়িচালক মো. সুজন বলেন, "এখন এই ব্রিজ পারাপার হতে গিয়ে খুব ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়—কখন জানি ব্রিজটি ভেঙে পড়ে যায়। যদি নতুন ব্রিজটি নির্মাণ করে দেওয়া হয়, তবে আমরা নিরাপদে যাত্রী নিয়ে আসা-যাওয়া করতে পারব।"
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবরার আহাম্মদ বলেন, "কাটাখালি ব্রিজের অবস্থা আমি ২ দিন নিজে দেখে এসেছি। আসলে ব্রিজের এবং মানুষের অবস্থাটি দেখে আমার নিজেরই কান্না পায়। এটা টেন্ডার হয়ে গিয়েছে এবং ঠিকাদারও নিয়োগ হয়ে গিয়েছে। ব্রিজটির নিচে বর্তমানে পানির উচ্চতা ৩৫ থেকে ৪০ ফিট। এই পানির লেভেল কমলে দ্রুত কাজ শুরু করব। প্রথমে আমাদেরকে পুরাতন ব্রিজটা অপসারণ করতে হবে, এই কাজটি এখনও করা হয়নি। আমাদের জেলা ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার চেঞ্জ হওয়ার কারণে এই কাজটা হয়নি। আমরা খুব শিগগিরই পুরাতন ব্রিজটি অপসারণ করে ফেলব। আপাতত আমি এলাকাবাসীকে নির্দেশনা দিয়ে এসেছি এই ব্রিজটি দিয়ে যেনো গাড়ি চলাচল না করে, শুধু মাত্র যেন মানুষজন চলাচল করে।"
অবশেষে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। ৬৪ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছর শুরু হয়ে এবছরের অক্টোবরের মধ্যে এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। দ্রুত এই নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হবে এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।
ভোরের আকাশ/রই