মধ্যনগরে ধান কাটায় শ্রমিক সংকট, দুশ্চিন্তায় কৃষক

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরের বিভিন্ন হাওরে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন কৃষকরা।
বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, পেট্রোল-ডিজেলের সংকট এবং শ্রমিকের অভাবে তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কিছু হাওরে ইতোমধ্যে পাকা ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান শুকানো ও মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণিরা। তবে অধিকাংশ হাওরে এখনো ধান পুরোপুরি পাকেনি; আরও ৭ থেকে ৮ দিন সময় লাগতে পারে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় বোরো ধান আংশিক পানির নিচে ডুবে আছে। ফলে হাওরে পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করতেও পারছেন না কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মধ্যনগর উপজেলায় ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৫০ হেক্টর জমি ইতোমধ্যে পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এ বছর ধান কাটার জন্য স্থানীয় ও বহিরাগত মিলিয়ে ৫৬টি হারভেস্টার মেশিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার চালকদের জন্য নির্ধারিত ডিজেল পয়েন্ট থেকে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রিপার মেশিন ব্যবহারেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে হাওরে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
বাইনসাপড়া হাওরের কৃষক রিপন সরকার বলেন, হাওরে এবার ধানের ফলন আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সপ্তাহখানেকের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। তবে বেশির ভাগ হাওরে পানি থাকায় হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, আগে ধান কাটার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা হাওরে এসে কাজ করতেন। কিন্তু এখন তারা আগের মতো আসছেন না। ফলে শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিককে দৈনিক প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে, এরপরও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
শালদিঘা হাওরের কৃষক মিজানুর রহমান ও বোয়ালা হাওরের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, হাওরের ভেতরে বৃষ্টির কারণে হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। উপরের কিছু জমিতে ধান পাকলেও পেট্রোল ও ডিজেলের সংকটের কারণে তা কাটা সম্ভব হচ্ছে না।
মধ্যনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, উপজেলার কয়েকটি হাওরে ইতোমধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। ডিজেল সংকট নিরসনে কম্বাইন হারভেস্টারের জন্য তিনটি ডিজেল পয়েন্ট থেকে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কোথাও তেল না পেলে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ মে’র মধ্যে ধান কাটা শেষ করা সম্ভব হবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই