সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ
নিজেদের বাঁচাতে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

বাগেরহাটের শরণখোলায় বিএমডিসি নিবন্ধনবিহীন চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে আলোচিত এমবিবিএস (এম) চিকিৎসক পরিচয়ধারী ডা. মাহামুদুল হাসানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে মামলার আসামিপক্ষের সমর্থকদের উপস্থিতি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় শরণখোলা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও মামলার আসামি মামুন গাজী। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকদের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং ডা. মাহামুদুল হাসানকে ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে ডাঃ মাহামুদুল হাসানের চিকিৎসা কার্যক্রম, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বিএমডিসি নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিএমডিসির নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবস্থাপত্র প্রদান ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে ধরা হয় । এসব সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ডিবিসি নিউজ, কালবেলা, বাংলা এডিসন, গ্রিন টিভি, নাগরিক টিভি, বৈশাখী টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি সংঘবদ্ধ চক্র কথিত চিকিৎসকের পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক সৈকত মণ্ডল বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাংবাদিকতা বা সংবাদ প্রকাশকে নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বাদী সাংবাদিক সৈকত মণ্ডল বলেন, সাংবাদিকতা করার কারণে কারও বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি। যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, মানহানি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক মহলের দাবি, মামলার অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি—মামুন গাজী, মনিরুজ্জামান সেপাই ও আলিম আল রাজী মুক্তিসহ সংশ্লিষ্টরা মামলার চাপ থেকে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এবং জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে শরণখোলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডাঃ মাহামুদুল হাসানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/ র.ই