গোবিন্দগঞ্জে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, আটক ১

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুল মোমিন (৪২) নামে এক হোটেল শ্রমিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আব্দুল মোমিন ওই এলাকার গেন্দা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা জরিনা বেগম জুম্মার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যান এবং ভুক্তভোগীর বাবা রঞ্জু মিয়া পার্শ্ববর্তী বাজারে দর্জির দোকানে কাজে যান। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে আব্দুল মোমিন মেয়েটিকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় সে।
পরবর্তীতে মা বাড়িতে ফিরলে মেয়েটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং সব ঘটনা খুলে বলে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত মোমিনকে আটক করে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমরুল কায়েস সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করেন।
এদিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফরহাদ আলী জানান, ভিকটিম ছাত্রীকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ (অ্যাক্টিভ পারভাজাইন্যাল ব্লিডিং) হচ্ছিল এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত পরীক্ষার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস ইউনিটে (ওসিসি) রেফার্ড করা হয়েছে। প্রাথমিক লক্ষণ দেখে ধর্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা জরিনা বেগম আহাজারি করে বলেন, "আমি নামাজে যাওয়ার সুযোগে মোমিন আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। আমি এই লম্পটের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও ফাঁসি চাই।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র