দীর্ঘ ১১ বছর পর সাংবাদিক হত্যা মামলার রায়, সন্তুষ্ট নয় নিহতের স্বজনরা

দীর্ঘ ১১ বছর পর চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক উৎস রহমান হত্যা মামলায় হেক্রম নামে একজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং এলিন ও শুভ কুমার নামে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছে।
বুধবার ( ২ সেপ্টেম্বর) রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মসিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মামলার এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী অন্যান্য দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জহিরুন্নাহার জুইসহ মামলার অন্যান্য আসামিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে আইনজীবী ও নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে আদালতের এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নুরজাহান বেগম। রায় ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।”
তিনি জানান, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করতে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক উৎস রহমান হত্যা মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রংপুরে ২০১৫ইং সালে মসিউর রহমান ওরফে উৎস নামের এক সাংবাদিককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। পেশাগত কারণে তিনি খুন হয়ে থাকতে পারেন বলে পুলিশ ও সহকর্মীদের ধারণা। স্থানীয় সাংবাদিকেরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত এর কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ।
মসিউর রহমান রংপুরের স্থানীয় পত্রিকা যুগের আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। তিনি উৎস রহমান নামে লিখতেন। সম্প্রতি তিনি মাদক-সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিবেদন করেছিলেন। তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, এরপর থেকে দুশ্চিন্তায় ছিলেন মসিউর। খুন হওয়ার দিনও যুগের আলো পত্রিকায় মাদক নিয়ে তাঁর লেখা একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মসিউর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয় মহাসড়কের পাশে একটি গাছে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায়।
পুলিশ বলছে, হাতুড়ি বা এ-জাতীয় ভারী বস্তু দিয়ে পিটিয়ে মসিউরকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই মামলায় ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়।
মামলায় বাদী পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, এই মামলায় মাদক সম্রাজ্ঞী জুই খালাস পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ স্বজনরা। এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ভোরের আকাশ/ এনউব