শিরোনাম
পোশাকশিল্পে চলমান সহিংসতার নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীএবার শীতে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসপাহাড়ে ‘বিচার’, জঙ্গলে পড়ে রইলো দুই জনের লাশ৪ ডিসেম্বর হচ্ছে না মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাএকনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদনচীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতিরপ্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকেট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রীপোশাকশিল্পে চলমান সহিংসতার নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীএবার শীতে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসপাহাড়ে ‘বিচার’, জঙ্গলে পড়ে রইলো দুই জনের লাশ৪ ডিসেম্বর হচ্ছে না মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাএকনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদনচীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতিরপ্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকেট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদামে গম চুরির অভিযোগে আটক ৫

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদামে গম চুরির অভিযোগে আটক ৫
মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদামে গম চুরির অভিযোগে আটক ৫

খুলনার দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদামের গম সংরক্ষণাগার (সাইলো) থেকে অবৈধভাবে গম সরানোর অভিযোগে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আরিফ হোসেনকে মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে খাদ্য গুদামের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

পরে পুলিশ প্রশাসন এবং দৌলতপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেনের মধ্যস্থতায় সকাল ১১টার দিকে শ্রমিকরা সাময়িকভাবে অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে আটক শ্রমিক নেতাকে মুক্তি দেওয়া না হলে পুনরায় আন্দোলন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। 

পুলিশ ও খাদ্য গুদাম সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে মহেশ্বরপাশা সিএসডির অভ্যন্তরে অবস্থিত গম সংরক্ষণাগার থেকে অবৈধভাবে দুই ট্রাক গম বোঝাই করে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে গেট দিয়ে বের করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে পুলিশ প্রশাসন, খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও মহেশ্বরপাশা সিএসডি কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে প্রথমে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, গম সংরক্ষণাগার সাইলোর ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মেহেদী এবং হিসাব শাখার কর্মচারী ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এলইউ প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান। পরবর্তীতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন গম সংরক্ষণাগারের-কর্মচারী ইমরান হোসেন এবং আরিফ হোসেনের ভাই রাজিব।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, আটক-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জব্দ করা দুই ট্রাকে প্রায় ৪২ মেট্রিক টন গম ছিল। ট্রাক দুটির নম্বর খুলনা মেট্রো-ট-১১-১১০৯ এবং যশোর-ট-১১-২০০১। এদিকে মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদামের অভ্যান্তর থেকে এর আগেও বিপুল পরিমাণ মালামাল সরিয়ে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ম্যাক্স ও আলতুনতাস নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন মালামাল আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত বর্তমানে খুলনা পিবিআইয়ে চলমান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এসব ঘটনার সঙ্গেও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও দায় নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসন ও খুলনা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাটি নিয়ে আলোচনায় বসেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে দুপুরের পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেলা পৌনে ৩টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সাইলো ভবনের প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মু:মোরাদুল ইসলাম জানান,গতকাল সোমবার রাতে আটককৃত তিনজনকে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার আরো দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কেও ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হবে। এর পরে মহেশ্বরপাশা খাদ্য (গম) সংরক্ষণার (সাইলো) কর্তৃপক্ষের এজাহার সাপেক্ষে সেভাবেই মামলা অন্তভূক্ত করা হবে।

সাইলোর অভ্যন্তরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন পরিচালক,বাংলাদেশ খাদ্য অধিদপ্তর  চলাচল সংরক্ষণ ও সাইলো বিভাগের পরিচালক মোঃ আব্দুস সালাম, দৌলতপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার, খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ ও পুলিশ সদস্যগন, খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের সঙ্গে সেখানে পাঁচটি গাড়িও আটকা পড়ে।পরে খাদ্য কর্তৃপক্ষ,পুলিশ কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে সন্ধ্যা সোয়া ৬ টায় সকলে বেরিয়ে আসে।

ভোরের আকাশ/রই

শেয়ার করুন: