১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা-মাকে হারালেন পুলিশ সদস্য

কক্সবাজারের টেকনাফে মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়েছেন পুলিশ সদস্য কামাল। স্বামী-স্ত্রীর পরপর মৃত্যুতে রঙ্গিখালী এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার নিজ বাড়িতে মারা যান কামালের মা সোয়া বিবি (৭৫)। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে মারা যান তাঁর বাবা আহাম্মদ হোছাইন (৮৫)।
স্বজনেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন আহাম্মদ হোছাইন। তবে স্ত্রীর মৃত্যুর পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন। আহাম্মদ হোছাইন ও সোয়া বিবির চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে।
পুলিশ সদস্য কামাল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত থাকায় আমাকে এলাকার বাইরে থাকতে হয়। হঠাৎ গতকাল পরিবারের কাছ থেকে মায়ের মৃত্যুর খবর পাই। খবরটি শুনে কিছুক্ষণ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। মায়ের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আজ বাবাও চলে গেলেন।’
তিনি বলেন, ‘জন্মদাতা মা-বাবা দুজনকেই একসঙ্গে হারিয়েছি। হয়তো এটাই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। সবাই আমার মা-বাবার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবেন।’
রঙ্গিখালী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল হোসাইন বলেন, ‘কামালের মা রোববার রাতে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুরে তাঁর বাবাও মারা যান। এমন পরপর মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। পুরো পরিবারে শোক নেমে এসেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইসমাইল বলেন, ‘এক দিনের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারানো পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। বিশেষ করে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনকে হারানোর ঘটনা স্বজনদের জন্য মেনে নেওয়া খুবই কঠিন।’
সোমবার মাগরিবের নামাজের পর রঙ্গিখালী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে স্বামী-স্ত্রীর জানাজা শেষে তাঁদের দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় কয়েক শ মানুষ অংশ নেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম আহাম্মদ হোছাইন ও সোয়া বিবির রুহের মাগফিরাত কামনায় আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব