শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জামালপুরে জমজমাট শতবর্ষী ঈদমেলা

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৫ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৩৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
জামালপুরে জমজমাট শতবর্ষী ঈদমেলা
জামালপুরে জমজমাট শতবর্ষী ঈদমেলা

বিদায়ী বসন্তের চঞ্চল হাওয়ায় ঈদের আমেজে শিশু, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সীরা যাচ্ছেন বালিজুড়ি এফএম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের দিকে। নাগরদোলার কড়কড় আওয়াজ, বিচিত্র বাঁশি বা বাদ্যের আওয়াজ ছাপিয়ে কানে আসছে মানুষের হইহুল্লোড়। বিশাল মাঠের বিভিন্ন জায়গায় চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক। ধোঁয়া উঠছে উত্তপ্ত কড়াই থেকে; ভাজা হচ্ছে জিলাপি, চিনির গজা, খুরমা, গুড়ের খইসহ বাহারি মিষ্টান্ন।

প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন থেকে সাত দিন মেলা বসে। এবারও ঈদ ঘিরে জমে উঠেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার শতবর্ষী এই মেলা। সকাল থেকে হরেক রকম দোকান সাজিয়ে বসলেও মেলা জমে ওঠে দুপুরের পরপর। মাঠে জনসমাগম থাকে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত।

স্থানীয় লোকজন জানান, শত বছরে ধরে চলা মেলাটি শুধু ঈদুল ফিতরের দিন থেকে ৭ দিনের জন্য বসে। এ সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে দোকানিরা এ মেলায় আসেন। একেবারে শুরুর দিকে মেলায় শুধু ঐতিহ্যবাহী খাবারের কয়েকটি দোকান থাকলেও দিন দিন এর পরিধি ও সংখ্যা বেড়েছে। গ্রামটির বাসিন্দা ও ঈদের ছুটিতে এলাকায় আসা লোকজনই মূলত এসব পণ্যের ক্রেতা। শুধু তাই নয়, সারা জেলা থেকে অনেকেই সপরিবার ছুটে আসেন এ মেলায়।

শিশুরা অভিভাবকদের হাত ধরে তাড়াহুড়ো করে মেলার ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। আর দোকানিরা তো ক্রেতা সামলাতে মহাব্যস্ত। মেলায় তিলধারণের ঠাঁই নেই। প্রসাধনী, খাবার, খেলনা, মিঠাই-মিষ্টান্ন, কৃষিপণ্য, মাটির পণ্য, বাঁশ ও বেতের পণ্য, লোহার পণ্য, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন ধরনের দুই শতাধিক দোকান আছে মেলায়। আছে চটপটি-ফুচকাসহ মুখরোচক নানা পদের খাবার দোকানও। শিশুদের বিনোদনের জন্য আছে নাগরদোলা, চরকি, দোলনাসহ নানা আয়োজন। সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সাইজের ছোট-বড় মিষ্টি।

আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, যুগ যুগ ধরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময় উপজেলার যমুনার চরাঞ্চলে সন্ন্যাসীরা ঘাঁটি করেছিল। সেখানে সন্ন্যাসীরা মন্দির নির্মাণ করে পূজা করতেন। এ উপলক্ষে সেখানে মেলা হতো। ১৯৫২ সালে ঈদ ও পূজার মেলার একই দিনে হওয়ায় হিন্দু-মুসলিমদের দাঙ্গার উপক্রম হয়। তখন মুসলিম নেতারা বালিজুড়ি এফএম উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ঈদুল ফিতরের দিন ‘ইসলামি ঈদমেলা’ শুরু করেন। সেই থেকে প্রতিবছর মেলাটি ইসলামি ঈদমেলা নামে পরিচিত। সেই পুরোনো ধারা বজায় রেখে এখনো প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন থেকে সাত দিন মেলা বসে।

পৌর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, ‘মেলায় যমুনার ওই পার থাইক্যা বগুড়ার দই আসত। ওই দইয়ের স্বাদ এখনো মুহে লাইগা আছে। তবে এহন আর ওই দই আহে না।’ মেলায় সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় খেলনার দোকানে। আরেক পাশে দেখা যায় আচারের দোকান। কোনো দোকানে পাঁচমিশালি, চালতা-বরইয়ের মিষ্টি ও ঝাল আচার। আবার কোনোটাতে সাজানো তেঁতুল চাটনি, জলপাই চাটনি, আমড়ার চাটনি, আমফালির মতো ১৪ থেকে ১৫ পদের জিবে জল আসা সুস্বাদু চাটনির পসরা।

আচার বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন জানান, মেলায় তরুণী ও নারীদের সমাগম সবচেয়ে বেশি। ফলে বেচাবিক্রিও ভালো হচ্ছে। প্রতিবছরই এই মেলায় দোকান নিয়ে বসেন।

মেলা আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় মেলা জমে উঠেছে। বিশেষ করে দুপুরের পর নারী-পুরুষ ও শিশুদের ঢল নামে। আশা করছেন মেলাটি সুন্দরভাবেই শেষ হবে।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

শেয়ার করুন: