উল্লাপাড়ায় অপ্রাপ্তবয়স্কের বিয়ে নিবন্ধনের কাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আইন লঙ্ঘন করে ১৬ বছর বয়সী এক ছেলের বিয়ে নিবন্ধন এবং বরের পরিবারের অজান্তে কাবিননামায় ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণের অভিযোগ উঠেছে ১৩ নম্বর সলপ ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বাল্যবিবাহ নিবন্ধন ও কথিত জালিয়াতির প্রতিকার এবং নিকাহনামা বাতিলের দাবিতে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বরের বাবা মো. ছোলাইমান হোসেন। সোমবার (১ নভেম্বর) ২০২৬ তারিখে সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর এ অভিযোগ দাখিল করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৪ জুলাই সলপ ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল মতিন একটি বিয়ে নিবন্ধন করেন। ওই দিন বর মো. রাফি হোসেনের বয়স ছিল ১৬ বছর ২ মাস ১৩ দিন। তাঁর জন্মতারিখ ২০০৭ সালের ১ মে। ফলে বিয়ের সময় তাঁর বয়স পুরুষের বিয়ের আইনগত ন্যূনতম বয়স ২১ বছরের নিচে ছিল।
বরের পরিবারের অভিযোগ, রাফি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক সুবিধা বা অন্য কোনো প্রলোভনে পড়ে আইন অমান্য করে বিয়েটি নিবন্ধন করেন কাজী আব্দুল মতিন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বরের পরিবারের অজান্তে কাবিননামায় ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে বরপক্ষ কাবিননামার সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ করে বিষয়টি জানতে পারে। ওই অনুলিপিতে ভলিউম নম্বর ২/২০২৩, পৃষ্ঠা নম্বর ২৩ ও নিবন্ধন নম্বর ২৩ উল্লেখ রয়েছে।
বরের পরিবারের দাবি, কনে পক্ষকে দেওয়া অনুলিপিতে ফি আদায়ের পরিমাণ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং বরপক্ষকে দেওয়া অনুলিপিতে ৫ হাজার ৬০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, দুই পক্ষের অনুলিপিতে একই ফি উল্লেখ থাকার কথা বলেও দাবি করেছে পরিবারটি। তাদের অভিযোগ, দুই কপিতে ফি আদায়ের পরিমাণে পার্থক্য আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবার কথিত অবৈধ নিকাহনামাটি বাতিলের পাশাপাশি অভিযোগের তদন্ত করে নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কাজী মো. আব্দুল মতিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অন্যদিকে কনে পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা