রায়গঞ্জে ভেজাল গুড় ও ঝুট কাপড়ের ধোঁয়ায় ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

শীত মৌসুম এলেই সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে খেজুরের রস থেকে পাটালি গুড় উৎপাদন বেড়ে যায়। তবে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প এখন ভয়াবহ ভেজাল ও পরিবেশ দূষণের উৎসে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত লাভের আশায় এক শ্রেণির অসাধু গাছি খেজুরের রসে চুন, চিনি ও ক্ষতিকর কেমিকেল মিশিয়ে গুড় তৈরি করছে।
পাশাপাশি গুড় জ্বালাতে ঝুট কাপড় পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ এবং বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।
প্রতি বছরের আশ্বিন মাস থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খেজুর গাছ কাটা ও রস সংগ্রহ শুরু হয়। রাজশাহী থেকে আসা অভিজ্ঞ গাছিরা শীত মৌসুমে খেজুর বাগান লিজ নিয়ে ভাটি স্থাপন করে গুড় উৎপাদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, খাওয়ার অনুপযোগী ইন্ডিয়ান চিটাগুড়, চিনি, চুন ও কাপড়ে ব্যবহৃত রংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কেমিকেল মিশিয়ে পাটালি গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
ভোক্তারা জানান, খাঁটি খেজুরের গুড় ভেবে বেশি দামে গুড় কিনলেও অনেক ক্ষেত্রে খাওয়ার পর পেটে জ্বালা, গলা শুকিয়ে যাওয়া ও অস্বস্তি অনুভূত হচ্ছে। শিশুদের খাবারে ব্যবহারের জন্য গুড় কিনে পরে ভেজালের তথ্য জানতে পেরে অনেক অভিভাবক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় গাছি মো. জামাল উদ্দিন বলেন, খাঁটি খেজুরের রস দিয়ে গুড় তৈরি করলে লাভ কম হয়। তাই কিছু গাছি অতিরিক্ত লাভের আশায় ভেজাল মেশাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবে এসব ভেজাল গুড় ও ঝুট কাপড় পোড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা বলেন, গুড়ে ভেজাল ও ঝুট কাপড় পোড়ানো রোধে নিয়মিত তদারকি চলছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/মো.আ.