যানজট নিরসন ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কেসিসির

খুলনা মহানগরীর যানজট নিরসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, রাস্তা ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং ডেঙ্গু মোকাবিলায় মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। একই সঙ্গে নগরীর পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসির পরিচালনা কমিটির ১৪তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ২৫ক ধারার ২ উপধারা অনুযায়ী সরকার এ কমিটি গঠন করে। সভায় নগরীর বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের জন্য খুলনা ওয়াসার খনন করা রাস্তা পুনরায় মেরামতের বিষয়ে প্রস্তুত করা সমঝোতা স্মারকে কেসিসির শর্তাবলি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া কেসিসির মালিকানাধীন ভবনগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মহানগরীর যানজট নিরসনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং অপরাধ শনাক্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নগরীর রাস্তা ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। সড়কে অবাধে বিচরণকারী বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহযোগিতায় কমিটি গঠন ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিপিএম পদ্ধতিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে মশক নিধনের ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইউনিপোল, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কনজারভেন্সি শাখার ঝাড়ুদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দিয়ে দৈনিক চার ঘণ্টা করে দুই শিফটে কাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন এনজিও, কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন (সিবিও), ব্যক্তি উদ্যোক্তা ও ভ্যানচালকদের তালিকাভুক্ত করে বর্জ্য অপসারণে শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য অ্যাপ্রোন তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুজিবর রহমানের নামে ‘খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও কেসিসি উইমেন্স কলেজ’-এর বিজ্ঞান ভবনের নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ময়লাপোতা মোড়সহ কেডিএ অ্যাভিনিউর নাম পরিবর্তন করে ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সরণি’ রাখার বিষয়ে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) কাছে পত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন মার্কেট উপআইন, ২০১৪-এর ৩ নম্বর উপধারা অনুযায়ী গঠিত দোকান বরাদ্দ কমিটির সুপারিশও অনুমোদন করা হয়। এ ছাড়া সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল ও কেসিসি পাইকারি কাঁচাবাজারে পণ্য আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ইজিবাইক থেকে দৈনিক ১০ টাকা হারে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন কেনা ছোট প্লেট কম্প্যাক্টর, রিভার্সিবল প্লেট কম্প্যাক্টর এবং প্রাইম মুভার উইথ লো-বেড ট্রেইলারের ভাড়া নির্ধারণে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হবে। হোল্ডিংয়ের নামজারি ফি নির্ধারণেও তিন সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আক্তার হোসেন, কেডিএর সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) এম এম মাহমুদুর রহমান, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এস এম মাইদুল ইসলাম, খুলনা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. জাকারিয়া, বিটিসিএলের ডিজিএম এস এম সাদমান রহমান এবং গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হক। এ ছাড়া কেসিসির বিভিন্ন বিভাগ ও শাখার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা