সিরাজগঞ্জে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে মরিচের বাম্পার ফলন

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে "লাল সোনা" হিসেবে খ্যাত শুকনো মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। পলিমাটিতে তুলনামুলক কম খরচ ও পরিশ্রমে মরিচের বাম্পার ফলন ও দাম ভালো পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের। চরের উৎপাদিত মরিচ আকারে পরিপুষ্ট ও রং ভালো হওয়ায় চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে।
কাজিপুর উপজেলা একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। নাটুয়ারপাড়া, মনসুরনগর, খাঁসরাজবাড়ি, চরগ্রিস, নিশ্চিন্তপুর ও তেকানিসহ এই ৬টি ইউনিয়ন যমুনা নদীর যমুনার চরে অবস্থিত। এ ছাড়া বাঁকি ৬ ইউনিয়ন হল, কাজিপুর সদর, সোনামুখি, চালিতাডাঙ্গা, মাইজবাড়ি, শুভগাছা ও গান্ধাইল ইউনিয়ন। কাজিপুর উপজেলার সবগুলি ইউনিয়নেই কমবেশি শুকনা মরিচ চাষ করা হয়ে থাকে। তবে যমুনা নদীর চরের ইউনিয়ন গুলিতে শুকনা মরিচ চাষ হয় সবচেয়ে বেশি।
জানা যায়, এক সময় যমুনার ধূ ধূ বালু চরে তেমন কোনো ফসল উৎপাদন হতো না। ফলে তাদের অভাব অনটন লেগেই থাকেতো। যমুনার ভাঙ্গণে নিঃস্ব এ সব মানুষের জীবন জীবিকা চলে চরে উৎপাদিত নানা ফসলের উপর। প্রযুক্তির উন্নয়নে এখন সে অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। চরের পলিমাটি এখন কৃষকের আশির্বাদে পরিণত হয়েছে। চরবাসি চরের পলিমাটিতে নানা ফসল উৎপাদন করে রীতিমত কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছে। ফলে চরের মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
নাটুয়ারপাড়া গ্রামের মরিচ চাষি আব্দুল মান্নান জানান, এ বছর তিনি ১ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। তার এই ১ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করতে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। শুকনা মরিচ বাজারে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫৩০ টাকা কেজি দরে। বর্তমান বাজার মূল্যে ৬০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
ভেটুয়া চর এলাকায় কৃষক ময়নাল হোসেন বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি এক বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছি। এরই মধ্যে ১ মণ কাঁচামরিচ বিক্রি করেছি। আরও চার মণ মরিচ শুকিয়ে রেখেছি। এখন যদি শুকনা মরিচ বিক্রি করি তাহলে প্রায় এক লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারব।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, এ বছরে কাজিপুর উপজেলায় ৪৪০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে যমুনা নদীর চরের ৬ ইউনিয়নের চরাঞ্চলেই আবাদ হয়েছে ৭০ ভাগ। নতুন পলিমাটিতে মরিচ চাষ ভালো হওয়ায় কৃষকেরা মরিচ চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ফলে লাল সোনা খ্যাত শুকনা মরিচ চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। এ বছর মরিচের বাম্পার ফলন হওয়ায় ও ভালো দাম পাওয়ায় চরের কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে।
কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে চরের কৃষকেরা মরিচ চাষে শুরু করেছে। মরিচের ফলন কিভাবে ভালো হবে সে বিষয়ে আমাদের কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/আ.র