সিরাজগঞ্জে হত্যা মামলায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদন্ড

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ইজিবাইক চালক মানিক হোসেন (২৪) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার দায়ের তিন জনের আমৃত্যু সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার মো. ইকবাল হোসেন এ রায় প্রদান করেন। সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রফিক সরকার এতথ্য নিশ্চিত করেন।
আমৃত্যু কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন- সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত বাবু শেখের ছেলে মোঃ খোকন শেখ, ছামাদ শেখের ছেলে মোঃ সাদ্দাম শেখ ও মোঃ আব্দুল আলী আরিফের ছেলে মোঃ রাব্বি ওরফে হাবিব শেখ। নিহত মানিক হোসেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে।
মামলার অভিযোগ পত্র সুত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর বিকেলে মানিক হোসেন খাওয়া-দাওয়া শেষে ইজিবাইক নিয়ে ভাড়া মারার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এর পর রাতে সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। রাত ১০ টার দিকে মানিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজা খুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি।
পরের দিন সকাল অনুমান ৮টার দিকে পরিবারের লোকজন লোকমুখে শুনতে পায় পাশ্ববর্তী কামারখন্দ থানার ঝাঐল উত্তরপাড়া গ্রামে বেত বাগানের মধ্যে একটি গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। তখন তারা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে রাস্তার পার্শ্বে মানিক হোসেনের গলাকাটা লাশ দেখে চিনতে পারে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে, ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এঘটনায় নিহত মানিকের মা মোছাঃ হাফিজা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে কামারখন্দ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্ত ব্যবহার করে তিন জনকে সনাক্ত করে পুলিশ।
এর পর আসামী মোঃ খোকন শেখ, মোঃ সাদ্দাম শেখ ও মোঃ রাব্বি ওরফে হাবিব শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আসামী খোকন শেখের দেখানো ও শনাক্ত মতে ইজিবাইক উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
মামলা তদন্ত শেষে গ্রেপ্তারকৃত তিন জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলার স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আজ অভিযুক্ত তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
এসময় রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এই আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) মোঃ রফিক সরকার। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাডঃ আমিনুল ইসলাম।
ভোরের আকাশ/এসএইচ