শ্রীপুরে হানি ট্র্যাপের অভিযোগে চারজনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের সদস্য সন্দেহে তিন তরুণী ও এক তরুণকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। মারধরের শিকার দুই তরুণীর একজন থানায় অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের একটি বাড়ি ঘেরাও করে ওই চারজনকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাদের মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা তরুণদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফোনে বাড়িতে ডেকে আনতেন। এরপর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। তবে আটক দুই তরুণী এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তারা কলেজের শিক্ষার্থী এবং ওই দিনই প্রথম বন্ধুদের সঙ্গে ওই বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক চারজনই মাওনা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দুই তরুণীর বয়স ১৭ বছর। অপর তরুণের নাম মাহবুব, বয়স ২০ বছর। ওই তিনজনই স্থানীয় পিয়ার আলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। অন্যজন ওই বাড়ির মালিক মো. খোকনের স্ত্রী সেলিনা আক্তার।
স্থানীয়দের দাবি, খোকন ও তার স্ত্রী সেলিনা দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যার পর তাদের বাড়িতে তরুণীদের এনে ‘হানি ট্র্যাপের’ মাধ্যমে তরুণদের সেখানে ডেকে আনতেন। পরে তাদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হতো।
চৌরাস্তা এলাকার মোবাইল ব্যবসায়ী নাছির অভিযোগ করেন, শনিবার (১৫ আগস্ট) তাকে রাস্তা থেকে ওই বাড়িতে নিয়ে দরজা বন্ধ করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর টাকা দাবি করে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে টাকা দিয়ে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং বিষয়টি স্থানীয়দের জানান।
নাছিরের অভিযোগের পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে দুই তরুণী ও এক তরুণ ওই বাড়িতে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা বাড়িটি ঘেরাও করে ভেতর থেকে চারজনকে আটক করেন। পরে তাদের মারধর করা হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দুই তরুণীকে এক নারী মারধর করতে এবং এক তরুণকে কয়েকজন যুবক মারধর করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, সেলিনা আক্তারকেও আটকে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে চারজনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নাছির আহমেদ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দেন। অভিযোগে বাড়ির মালিক খোকন মিয়া, তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার ও দুই তরুণীকে আসামি করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়রা চারজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এর আগেও হানি ট্র্যাপে ফেলে কয়েকজনকে ব্ল্যাকমেল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, হানি ট্র্যাপের অভিযোগে চারজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও কয়েকজনকে হানি ট্র্যাপে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাছির আহমেদ বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন।
আটক ৪ জনকে বুধবার (১৯ আগস্ট) গাজীপুর আদালতে পাঠানো হবে। ওসি আরও জানান, মারধরের শিকার এক তরুণী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা