আদমজী ইপিজেড-শিমরাইল সড়কের ফুটপাথ চলাচলের অনুপযোগী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ-আদমজী ইপিজেড-শিমরাইল সড়কটি এখন খুবই ব্যস্ততম সড়ক। এ সড়কটি এখন একটি ঝুঁকিপুর্ণ সড়কে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এ সড়কের উভয় পাশে গত ১৫-২০ বছর আগে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাথ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এ সড়কের শত শত পথচারী সড়ক দিয়ে চলাচল না করে সড়কের ফুটপাথ ব্যবহার করে চলাচল করে থাকেন। কিন্তু ইদানিং এ ব্যস্ততম সড়কের ফুটপাথটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গেছে। ফুটপাথটির বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
অনেক স্থানে ফুটপাথ ভেঙ্গে যাওয়ায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে আদমজী থেকে শিমরাইল পর্যন্ত ফুটপাথের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। সড়কের পূর্ব দিকের অনেক জায়গায় ফুটপাথের কোন চিহ্ন পর্যন্ত নেই। এতে প্রায়ই ঘটতে দুর্ঘটনা। ফুটপাথের এ বেহাল অবস্থার কারণে প্রাণ হারাতে পারেন পথচারীরা। এ ব্যস্ততম সড়কের ফুটপাথটি মেরামত না করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন আদমজী ইপিজেডের হাজারো শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
জরুরী ভিত্তিতে এ ব্যস্ততম সড়কের ফুটপাথটি মেরামত করার জোর দাবি জানান। বুধবার আদমজী থেকে শিমরাইল মোড়ের বিভিন্ন স্পটে সরেজমিন গিয়ে ফুটপাথটি ভাঙ্গা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এ সময় পথচারীদের ভাঙ্গা ও জরাজীর্ণ ফুটপাথ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-আদমজী ইপিজেড-শিমরাইল সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার অটোরিক্সা, ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও মিশুকসহ নানা ধরণের যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়াও আদমজী ইপিজেডের পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান, মালবাহী ট্রাক, পদ্মা ও মেঘনা ওয়েল ডিপোর অসংখ্য ট্যাঙ্কলরি ও নারায়ণগঞ্জ সাইলো থেকে গম বোঝাই ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। এ সড়কটি কয়েক সেকেন্ডের জন্যও ফাঁকা থাকছে না।
তার ওপর আদমজী ইপিজেড কাজে যোগদানের আসা য্ওয়ার সময় যানবাহনের চাপ অনেকাংশ বেড়ে যায়। এ সড়কের পাশে রয়েছে আদমজী ইপিজেড। এ ইপিজেডে প্রায় সত্তর হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা কাজ করছেন। আদমজী ইপিজেডটি ছুটি ও কাজ শুরুর সময় এ সড়কটি খুবই ব্যস্ততম সড়কের পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তখন ¯্রােতের মতো একত্রে শ্রমিকরা বের হন ও কাজে যোগ দেন। তবে অনেক শ্রমিক পায়ে হেঁটে আশপাশের গন্তব্যে চলাচল করছেন।
এছাড়াও আশপাশের লোকজন অনেক সময় এ সড়কে যানজট সৃষ্টি হলে যাত্রীরা পায়ের হেঁটে আশপাশের নির্ধারিত গন্তব্যে যাচ্ছেন। কিন্তু এ সড়কের ফুটপাথটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। ফুটপাথটি অনেক স্থানে ভেঙ্গে গেছে। ইট-সুরকি, পাথর ও রড বের হয়ে এসেছে। অনেক স্থানে ফুটপাথ ভেঙ্গে ডিএনডি খালে পড়ে গেছে। আবার কোন কোন স্থানে ফুটপাথটি জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন না। এমনকি ফুটপাথটি মেরামত কাজও করছেন না। ফলে শ্রমিকরা ব্যস্ততম সড়ক দিয়েই হেঁটে যাচ্ছেন। এতে তারা সড়ক দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছেন। যে কোন সময় সড়ক দুঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে পারেন পথচারীরা।
আটি এলাকার রং মিস্ত্রি কালাম মিয়া বলেন, প্রতিদিন আমরা এ সড়কের ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করছি। ফুটপাথের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গেছে। ফলে আমরা মূল সড়ক দিয়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাথটি জরাজীর্ণ হয়ে আছে। কিন্তু সওজ কর্তৃপক্ষ মেরামত কাজ করছেন না। তিনি বলেন, সড়কের পশ্চিম পাশের ফুটপাথটি জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকলেও পূর্বপাশের ফুটপাথের কোন অতিস্তই নেই। এতে আমাদের চলাচলের সময় মূল সড়ক ব্যবহার করায় চরম জীবনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে বাধ্য হচ্ছি। হিরাঝিল এলাকার বাসিন্দ আবু সাইয়িদ বলেন, এ সড়কের ফুটপাথের পশ্চিম পাশের ফুটপাথটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গেছে। মেরামতের কোন উদ্যোগ নেই।
তার উপর আদমজী থেকে শিমরাইল পর্যন্ত সড়কের ফুটপাথে বিভিন্ন ধরণের গাছ জন্মে জঙ্গল সৃষ্টি হয়েছে। এতে হেঁটে যাওয়ার সময় সাপসহ বিভিন্ন বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড় দেয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জরুরী ভিত্তিতে ফুটপাথটি মেরামত করার জোর দাবি জাাচ্ছি। আদমজী ইপিজেডের শ্রমিক জসিম উদ্দিন বলেন, আাদমজী ইপিজেড থেকে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত পাওয়ার স্টেশন এলাকা, সাইলো রোড এলাকা, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকা, আটির রংধনু সিনেমা হল এলাকা ও আটির ভুমিপল্লি এলাকায় ফুটপাথে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গা ভেঙ্গেও গেছে।
এ সড়কের পাশের চা বিক্রেতা সুলতান মিয়া বলেন, এ ব্যস্ততম সড়কের ফুটপাথটি ভাঙ্গা-চুরা ও জরাজীর্ণ হওয়ায় রাতের বেলা অনেক পথচারী গর্তে পড়ে আহত হচ্ছেন। আবার ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতে না পেরে মূল সড়ক দিয়ে হাটতে গিয়ে চলন্ত যানবাহনের ধাক্কায় আহত হচ্ছেন। যে কোন সময় পথচারীরা যানবাহনের চাপায় কিংবা ধাক্কায় প্রাণ হারাতে পারেন।
ওমরপুর এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্করোডসহ আশপাশের সড়ক-মহাসড়ক আধুনিকায়ন হয়েছে। কিন্তু পুরাতন এ সড়কটি এখনো এনালক যুগেই থেকে গেছে। সড়কটি আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে না। সড়কটির ফুটপাথ যেন একটি জঙ্গল, ভাঙ্গাচুরার স্থান। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এতে পথচারীদের চলাচলের সময় নানাবিধ সমস্যা হচ্ছে।
শিক্ষক মোরশেদ আলম বলেন, এ সড়কের ফুটপাথের অবস্থায় এতোই জরাজীর্ণ যাতে রাতের বেলা পথচারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই জরুরী ভিত্তিত পথচারীদের কথা বিবেচেনা করে সড়কটির ফুটপাথটি মেরামতসহ আধুনিকায়ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। এ সড়কের দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্লাহ মজুমদার ফুটপাথটি জরাজীর্ণ ও ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ফুটপাত মেরামতের ইস্টিমিট হয়ে গেছে। বর্তমানে বিষয়টি টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জুনের মধ্যে হয়ে যাবে।
ভোরের আকাশ/আ.র