বন্ধ পাট ক্রয়কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকদের পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বন্ধ থাকা পাট ক্রয়কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
তিনি বলেন, পাট ক্রয়কেন্দ্র চালু করা গেলে দাদন ও বিভিন্ন কৌশলে কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য কেড়ে নেওয়ার সুযোগ কমবে। এ বছর পাটের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের সন্তোষ দরবার হলে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
শরীফুল আলম বলেন, পাটচাষিদের সরাসরি সুবিধা দিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কৃষকদের সরাসরি বীজ, সার ও কীটনাশক দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে পাটচাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও শান্তি নিশ্চিত করা এবং সবার বসবাসের উপযোগী সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনই তাঁদের লক্ষ্য। মওলানা ভাসানীর কর্মময় জীবন এ কাজে প্রেরণা জোগাবে।
বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর অবদানের কথা তুলে ধরে শরীফুল আলম বলেন, পৃথিবীর অনেক গুণী ব্যক্তির সাফল্যের পেছনে তাঁদের পরিবারের, বিশেষ করে জীবনসঙ্গীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকে। মওলানা ভাসানীর জীবনেও তাঁর সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি শিক্ষানুরাগী ছিলেন এবং মওলানা ভাসানীর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন ও সাহস জুগিয়েছেন।
গত ১৭ বছরে মওলানা ভাসানী ও বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবহেলা করে অচল অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সরকার গুণীজনদের সম্মান জানাতে চায়। তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ করলেই হবে না, মওলানা ভাসানী ও বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর কর্ম ও আদর্শও ধারণ করতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, তাঁতি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা, শ্রমের মর্যাদা, ন্যায্য সুযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা এসব দায়িত্ব পালনে প্রেরণা জোগায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন থেকে ত্যাগ, জনকল্যাণ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়। রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করা।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশপ্রেম ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশপ্রেমকে ধারণ করে দেশ গঠনে কাজ করছেন।
মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমানসহ অন্যরা।
এর আগে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ অতিথিরা সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে গিয়ে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও তাঁর সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তাঁরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা।
ভোরের আকাশ/সু.পা