সীতাকুণ্ডে অপরিকল্পিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাড়ছে অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি

সীতাকুণ্ডে অপরিকল্পিত ভাবে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পৌরসদরস্থ মার্কেট ও বিপণী বিতানগুলোতে নেই অগ্নিপ্রতিরোধমূলক পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও।
নেই দুর্ঘটনার সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের সু-ব্যবস্থা। ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা, সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ কিংবা দেওয়ানী মোকদ্দমার বিষয়টি চিন্তা করে ভবন নির্মাণে হচ্ছে তাড়াহুড়া। তাতে ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত নীতিমালা কিংবা ঝুঁকির বিষয়টি খুব বেশি আমলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেনা অধিকাংশ মালিকপক্ষ। এদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ন-শিল্পায়ন, পুকুর-জলাশয় ভরাট ও যত্রতত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ বসতবাড়ী গড়ে উঠায় উপজেলায় প্রতিনিয়ত কমছে জলাধার।
ফলে দূর্ঘটনাকালীন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী চলাচলে যেমন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে, ঠিক তেমনি ভাবে অগ্নি নির্বাপণে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে পর্যাপ্ত পানির। ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোঃ আলী বলেন, বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলোর সামনে সুবিধাজনক স্থানে পানির ড্রাম রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ঐ ড্রামে লেখা থাকবে অগ্নিনির্বাপনে ব্যবহারযোগ্য পানি। যাতে ব্যবসায়িরা অগ্নি দূর্ঘটনার সময় সেখান থেকে পানি নিয়ে অগ্নিনির্বাপনের প্রাথমিক কাজটি করতে পারেন।
পর্যায়ক্রমে ব্যবসায়িরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে। পৌরসদরস্থ ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ জানান, পাশাপাশি বহুতল মার্কেট ও দোকানের পাশে গভীর নলকূপ স্থাপনের ব্যাপারে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। যেন প্রয়োজনের সময় পানির প্রাথমিক চাহিদা পূরন হয়।
এছাড়া মার্কেটের সব বৈদ্যুতিক সুইচকে একটি নিয়ন্ত্রণ বেগারের আওতায় আনা প্রয়োজন। যেন সেটি ব্যবহার করে একই সঙ্গে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্ধ করা যায়। যেন শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন যেন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
গত কয়েক বছরে উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে বড় ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনার ফলে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সেক্টরই নড়ে চড়ে বসে। বিশেষ করে বি.এম ডিপো, তুলার গুদাম, সীমা অক্সিজেন প্লান্ট ও সাবেক কাউন্সিলর দিদারুল আলম এ্যাপোলোর মালিকানাধিন কলেজ রোডস্থ এ্যাপোলো শপিং সেন্টারে কয়েক দফা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পৌরসদরস্থ বিভিন্ন মার্কেট-বিপণী বিতানগুলোর অগ্নি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকার ঝুঁকির বিষয়টি বেশ আলোচনায় আসে।
অগ্নিকাণ্ডের এসব ঘটনা উপজেলার গন্ডি অতিক্রম করে দেশব্যাপী বেশ হইচই পড়ে যায়। বিশেষ করে ২০২২ সালের ৪ জুন মধ্যরাতে সোনাইছড়ি ইউনিয়নস্থ বি.এম ডিপো ও ২৩ সালে বড় কুমিরার তুলার গুদাম ও সীমা অক্সিজেন প্লান্টের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঝুঁকির বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়। এসব ঘটনার পাশাপাশি বিশ্বজিৎ সিংহ এর লেপ-তোষক দোকানে কয়েক দফায় অগ্নিকান্ডসহ পৌরসদরস্থ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা।
সব মিলিয়ে অগ্নিঝুঁকি কমিয়ে আনতে প্রশাসন ও ব্যবসায়ী কমিটির তৎপরতা বাড়ানো জরুরী হয়ে পড়েছে। মার্কেট ও বিপণী বিতানগুলোর অগ্নিঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ব্যবসায়ী কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজস্ব অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি বহুতল ভবন নির্মাণ পূর্ববর্তী সতর্কতা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রফিক জানান, প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহায়তায় ব্যবসায়ীদের অগ্নিপ্রতিরোধের নিজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলোতে ব্যবসায়ীরাও ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব অনুধাবন করছেন।
বাজারে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোন গলি নেই, কিংবা থাকলেও অনেকটা সরু। তাতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ীগুলো চলাচলের অনুপযোগী। উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মোঃ সাইদুল হক বলেন, সীতাকুণ্ড বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। যে কোনো কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে প্রথমেই প্রয়োজন হয় পানির। পৌরবাজার ও পাশের মার্কেটগুলোর জন্য লালদীঘি ও থানা সংলগ্ন দীঘির পানি ছাড়া বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেই।
অথচ ঐ দীঘিগুলোর পাড় ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে দোকানপাটসহ বহুতল মার্কেট। তাতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী পানি বহন করে যাতায়াত করার মতো নেই সু-ব্যবস্থা। তিনি আরো জানান, পৌরসদরস্থ কলেজ রোড এবং পুরাতন ডি.টি রোডে যত্রতত্র সিএনজি অটোরিক্সা সহ ভাসমান ব্যবসায়ীদের ভ্যানগাড়ীতে যানজট লেগেই থাকে।
তাতে দুর্ঘটনাকালিন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী গন্তব্যে পৌঁছতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
ভোরের আকাশ/আ.র