শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১০ বছর ধরে বন্ধ চলাচলের পথ, প্রতিকারের আশায় প্রতিবন্ধী দম্পতি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

একটি বাড়ি, অথচ সেই বাড়িতে ঢোকার পথটুকুই যেন সবচেয়ে বড় বাধা। স্বামী-স্ত্রী দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে যেখানে অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেখানে নিজেদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথটিও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। প্রায় এক দশক ধরে চলাচলের পথ নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা।

‎‎গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রিফাইতপুর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতি মো. মমতাজুর রহমান ও তার স্ত্রী এই দুর্ভোগের শিকার।

‎তাদের অভিযোগ, প্রতিবেশী আইয়ুব আলী টিনের গেট ও বেড়া দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির চলাচলের পথ সংকুচিত করে রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হয়েছে, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, এমনকি আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। কিন্তু প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান।

‎সরেজমিনে রিফাইতপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মমতাজুর রহমানের বাড়ির মূল প্রবেশপথে টিনের একটি গেট রয়েছে। গেটের ভেতরে চলাচলের জন্য আনুমানিক দুই থেকে তিন ফুট জায়গা খোলা রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আগে পথটি তুলনামূলক প্রশস্ত ছিল। বর্তমানে পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

‎বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়া, জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এমনিতেই চলাচলে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার ওপর বাড়ির প্রবেশপথ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ তাদের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

‎আক্ষেপ প্রকাশ করে মমতাজুর রহমান বলেন, তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। অনেক কষ্ট করে তারা বাড়ি তৈরি করেছেন। বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য জমিও কিনেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে সালিশে কয়েকবার পথ খুলে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আবারও তা বন্ধ বা সংকুচিত করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার।

‎মমতাজুর রহমানের অভিযোগ, ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়ে তিনি ভয়ভীতি, হুমকি এমনকি মারধরেরও শিকার হয়েছেন। কয়েক মাস আগেও তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

‎তিনি বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে এই সমস্যা নিয়ে ঘুরছেন। বিভিন্ন সময় স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে, থানায় অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। নিজের বাড়িতে যাওয়ার পথটুকুর জন্য এভাবে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে। এটি তার কাছে অত্যন্ত কষ্টের।

মমতাজুর রহমানের দাবি, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে প্রতিবেশী আইয়ুব আলীর সঙ্গে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তবে মামলার বিষয় আলাদা হলেও বাড়িতে যাতায়াতের পথটি তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন। ওই পথের জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‎‎চলাচলের পথ ফিরে পেতে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। পরে প্রতিকার চেয়ে থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে তাদের।

‎এ বিষয়ে বাদিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাফায়েতুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুই থেকে তিনবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে জমি-সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় আদালতের রায়ই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত হবে।

‎অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আইয়ুব আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

টাঙ্গাইলে ওষুধ কেলেঙ্কারী,সড়ক অবরোধ, ক্ষোভে ফুঁসছে শ্রমিকরা

‎প্রায় এক দশক ধরে একটি চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধে আটকে আছে একটি প্রতিবন্ধী দম্পতির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কয়েক ফুট জায়গা কারও কাছে হয়তো খুব বেশি কিছু নয়, কিন্তু মমতাজুর রহমান ও তার স্ত্রীর কাছে এই পথটিই বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র ভরসা। চিকিৎসা, জরুরি প্রয়োজন কিংবা দৈনন্দিন কাজে বাইরে যাওয়ার জন্য পথটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‎মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকলেও মানবিক দিকটি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি ন্যায়সংগত সমাধানের প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী দম্পতি। তাদের একটাই চাওয়া নিজের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য যেন আর কারও দয়া বা অনুকম্পার ওপর নির্ভর করতে না হয়; আইন ও আদালতের মাধ্যমে যেন নিশ্চিত হয় তাদের চলাচলের ন্যায্য অধিকার।

ভোরের আকাশ/ এনউব

শেয়ার করুন: