শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ফুলে ফুলে লেখা বিজয়ের গল্প

বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:২৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

১৬ ডিসেম্বরের ভোর। সূর্য ওঠার আগেই বগুড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পথে মানুষের পদচারণা শুরু হয়। কারও হাতে গাঁদার মালা, কারও হাতে গোলাপ, আবার কেউ শিশুর হাত ধরে একটি মাত্র ফুল নিয়ে এসেছে। এই ফুলগুলো শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এগুলো যেন বহন করে এক জাতির দীর্ঘ লড়াই আর বিজয়ের গল্প। শহীদ মিনারের দিকে মানুষ এগোতে থাকলে পথের দুইপাশে দেখা যায় ফুলের দোকানগুলো। আগেরদিন থেকেই সেখানে ব্যস্ততা শুরু। সারি সারি দোকানের সামনে ক্রেতারা গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা বেছে নিচ্ছেন। দোকানিরা এক হাতে মালা গাঁথছেন, অন্য হাতে ক্রেতার কাছে তুলে দিচ্ছেন।

ফুল বিক্রেতা শফিক বলেন, “বিজয় দিবসে শুধু ব্যবসা নয়, মানুষ যে শ্রদ্ধা নিয়ে ফুল কিনছে, তা দেখলে মনে হয় আমাদেরও অংশীদারত্ব আছে ইতিহাসের সঙ্গে।”

শহীদ মিনারের বেদিতে একের পর এক ফুল জমতে থাকে। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে শহীদ মিনার যেন এক মুহূর্তে ইতিহাসের মিলনমেলা হয়ে ওঠে। যাদের জন্ম স্বাধীন বাংলাদেশে, তারাও আজ ফুলের মাধ্যমে ফিরে যায় ১৯৭১ সালের রক্তঝরা দিনগুলোর কাছে। ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি মানুষের চোখে ফুটে ওঠে গভীর গর্ব ও কৃতজ্ঞতা।

ফুলের দোকান থেকে শহীদ মিনারের দিকে এগোতে থাকা মানুষের প্রতিটি পদচারণা যেন ইতিহাসের সঙ্গে মিশে যায়। বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধারা ফুলের স্তূপের দিকে তাকিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাদের চোখে ভেসে ওঠে সহযোদ্ধাদের মুখ, রক্তঝরা দিনের স্মৃতি। ফুলগুলোর রঙও বহন করে প্রতীকী অর্থ। লাল মানে রক্তের স্মৃতি, সবুজ মানে স্বাধীন দেশের স্বপ্ন। গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা—সব মিলিয়ে শহীদ মিনার হয়ে ওঠে বিজয়ের নীরব কাব্য। শিশুদের ছোট্ট হাতের ফুল, তরুণদের নিবেদিত মালা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা—সব মিলিয়ে এক মুহূর্তে ফুলই হয়ে ওঠে ইতিহাসের এক জীবন্ত ভাষা।

দোকানে ফুল কিনতে আসা শারমিন আক্তার বলেন, “এই ফুল শুধু অতীতের জন্য নয়, এটা আমাদের ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। আমাদের নতুন প্রজন্ম যেন স্বাধীনতার মুল্য বুঝতে পারে, আর সেই মুল্য ধরে রাখতে পারে।”

দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনার ফুলে ফুলে ঢেকে যায়। চারপাশে ভিড় থাকলেও শব্দ কমে আসে। কোনো উচ্চস্বরে স্লোগান নেই, কোনো কোলাহল নেই—তবু ফুলের নীরব ভাষায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিজয়ের বার্তা। ফুলের দোকানের ব্যস্ততা, মানুষের পদচারণা, শিশুদের কণ্ঠস্বর—সব মিলিয়ে বগুড়ার সকাল হয়ে ওঠে এক আবেগী উৎসব, যেখানে স্বাধীনতার ইতিহাস প্রতিটি মুহূর্তে ফিরে আসে। ১৬ ডিসেম্বর তাই শুধু একটি তারিখ নয়। এই দিনে ফুলের মাধ্যমে লেখা হয় একটি জাতির গর্ব, ত্যাগ আর বিজয়ের গল্প। শহীদ মিনার, ফুলের দোকান, শিশু, তরুণ ও বৃদ্ধ—সবাই একসাথে মিশে যায় ইতিহাসের সঙ্গে। একটি মাত্র ফুল হলেও তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে অমলিন ভালোবাসা, স্মৃতি এবং স্বাধীনতার চেতনা।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

বিজয় দিবস

শেয়ার করুন: