মুষ্টির চালে জীবন চলে আয়েজউদ্দিনের

আয়েজউদ্দিনের বয়স ৮০ বছর পেরিয়ে গেছে। এই বয়সে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঈশ্বরদী দাশুড়িয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর মাদ্রাসার মুষ্টির চাল সংগ্রহ করে জীবন অতিবাহিত করেন তিনি।
সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আর শুক্রবার তিনি চাল সংগ্রহ করে সেটি প্রতি শুক্রবার তিনভাগ করে দুইভাগ যায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য আর এক ভাগ পায় আয়েজউদ্দিন। এতে তার ভাগে পড়ে ৪-৫ কেজি চাল। এর মধ্যে অর্ধেক তিনি খাওয়ার জন্য রেখে দেন আর বাকি অংশ বিক্রি করে সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কিনেন।
আয়োজউদ্দীন বলেন বয়স হয়ে গেছে হাটু ব্যাথা মাজা ব্যাথা চোখেও ঠিক ভাবে দেখতে পারি না।কারন এক চোখে ছানি পড়েছে। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারি না। তাই খুব বেশি বাড়ি থেকে চাল সংগ্রহ করতে পারে না সে। যেটুকু পায় দুর্মূল্যের এই বাজারে সংসার চলে না।তাই ঔষধ পত্রও লাগলেও কিনতে পারে না।
এই ভাবেই কষ্ট করে জীবন অতিবাহিত করছে ৬ কন্যা সন্তান এবং এক পুত্র সন্তানের জনক বাবা আয়োজউদ্দীন।সন্তান বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে। তাই বাবা মা কারও দায়িত্ব নেয় নি ছেলে সন্তানটিও।মেয়েদের বিয়ে দিয়েছে ধার দেনা আর মানুষের সাহায্য নিয়ে। নিম্ন বিত্ত পরিবারে তাদেরই নুন আনতে পান্তা ফুরায়।তাই বাবা মায়ের ভরনপোষণ দেখার মত ক্ষমতা নেই কোন সন্তানেরই।
অভাবের সংসারে তার সম্বল বলতে ভাঙা টিনের ঘর একটা সরকারের দেওয়া টিউবওয়েল আর ঘরে কয়েক কেজি মুষ্টির চাল। বেশির ভাগ দিনই শরীর খারাপ থাকে তাই মুষ্টির চাল সংগ্রহ করতে যেতে পারে না নিয়মিত । কিন্তু কষ্ট হলেও পাঁচ ওয়াক্ত মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন প্রতিদিন।
ঐ এলাকার প্রতিবেশী মুদি দোকনদার জাহিদুল ইসলাম বলেন আয়েজউদ্দিন চাচা এই এলাকার কয়েকজন অসহায় মানুষের মধ্যে একজন। মুষ্টির চাল তুলে কোন রকম দিনপাত করেন।তিনি খুবই ভালো মানুষ। এদিক দিয়ে যাওয়া আসার পথে ছোট বড় সবাইকে সালাম দেন।এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত মসজিদে এসে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করেন।
চাঁদপুর গোরস্থান জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত বিশ্বাস বলেন তিনি খুবই সৎ এবং ভাল মানুষ। আমাদের মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী সে।
এই এলাকার মোসেরউদ্দীন প্রামাণিকের ছেলে আয়েজউদ্দিন কয়েকবছর আগেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নৈশ প্রহরীর কাজ করতেন কিন্তু বয়সের ভারে নুয়ে পড়া তাকে আর কোন প্রতিষ্ঠান কাজে রাখে না।তাই তাকে বাদ দিয়েছে। আবার তার নামে যে বয়স্ক ভাতা চালু আছে। কিন্তু মোবাইলের দোকানে টাকা তুলতে গেলে বলে আপনার টাকা কোন প্রতারক তুলে নিয়েছেন।তাই তিনি বয়স্ক ভাতাও থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সমাজ সেবা অফিসার আতিকুর রহমানের কাছে জানতে চেয়ে কয়েকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেন নি। আয়েজউদ্দীনের চাওয়া আমি তো তেমন হিসাব নিকাশও পারি না তাই আমাকে কেউ যদি একটা গরু বা কয়েকটি ছাগল কিনে দিত তাহলে লালন পালন করে কোন রকম চলতে পারতাম।
কিন্তু তার এই চাওয়া পাওয়া কি কোন বিত্তবান পুরন করবেন?
ভোরের আকাশ/আ.র