খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

খুলনা মহানগরীর ডাক বাংলো মোড়ে মাসুম মিনাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করল দূর্বৃত্তরা। বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৯টার পর খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম ডাকবাংলা মোড়ের বাটা বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
পূর্ব রূপসা বাগমারা গ্রামের মৃত
আলহাজ্ব মিনহাজ উদ্দিন ওরফে মিনা মুন্সির পুত্র, সাবেক রুপসা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মহিউদ্দিন মিনা ও সাবেক নৈহাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল মিনার ছোট ভাই মিনা মাসুম বিল্লাহ। যেখানে সার্বক্ষণিক হাজার হাজার লোকের ভিড় জমে থাকে। চতুর্দিকে থাকে পুলিশের পাহারা। এরই মধ্যে ঘটে গেলো এমন ঘটনা। নিহত মাসুম বিল্লাহ শ্রমিক দলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। আওয়ামী পিরিয়ডেও তিনি ছিলেন গা ঢাকা দিয়ে। বিএনপি’র পিরিয়ডে এসে নিহত হতে হল। এদিকে ঘাতক অশোক ঘোষ অস্ত্র সহ স্থানীয়দের কাছে আটক হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ৭ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাটা শোরুমে প্রবেশ করে মাসুম বিল্লাহকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি পড়ে গেলে, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অশোক ঘোষ নামে একজনকে আটক করে। উত্তেজিত জনতা তাকে অন্য দোকানের মধ্যে রাখলেও পরে পুলিশ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাকে আটক করে। অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, ঘটনার প্রাথমিক তথ্য অনুসারে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পেছনে পূর্বশত্রুতা, শ্রমিক সংগঠনের দ্বন্দ্ব বা আধিপত্য বিস্তার ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর দ্রুত গুলিবিদ্ধ মাসুম বিল্লাহকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল ও আশেপাশের এলাকায় নিহতের স্বজনরা ভিড় জমিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনার পর ডাকবাংলা মোড়ের আশেপাশের এলাকা অনেকক্ষণ স্থবির হয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং ঈদের বাজার করতে আসা নারী-পুরুষদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর ছিল।
এ বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত চলছে এবং পুলিশ অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভোরের আকাশ/নি