শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সাহিত্য

খালেকদাদ চৌধুরী পুরষ্কার পাচ্ছেন কবি আবদুল হাই শিকদার ও ড. মাসুম

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজ আয়োজিত ২৯তম বসন্তকালীন সাহিত্য উৎসবে খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন ‘সাহিত্যে’ কবি ও সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং গবেষণায় প্রফেসর আবদুল্লাহ আল-মাসুম। আগামী ১৪ ফেব্রুুয়ারি নেত্রকোনা জেলা শহরের মোক্তারপাড়ার বকুলতলায় এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সংগঠনের সভাপতি  ম. কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কবি তানভীর জাহান চৌধুরী এ পুরস্কারের কথা সাংবাদিকদের জানান। এ সময় সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি কবি এনামূল হক পলাশ, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কবি কামাল হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক এটিএম আজাদ পিন্টু, সাংবাদিক মনোরঞ্জন সরকারসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত  ছিলেন। 

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজ ১৯৯৭ সাল থেকে প্রতি বছর পহেলা ফালগুনে বসন্তকালীন সাহিত্য উৎসবের আয়োজন করে থাকে। উৎসবে প্রতি বছর একজন দেশবরেণ্য লেখক, কবি অথবা সাহিত্যিককে খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন দেশবরেণ্য কবি ও দেশের অন্যতম সংবাদপত্র দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার। তিনি ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারীতে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদীর তীরে দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ওয়াজেদ আলী এবং মা হালিমা খাতুন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন কৃষিবিদ তাঁর বাবা -মা দুজনই ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ছাত্র। কবিতা, গল্প,  প্রবন্ধ, শিশু সাহিত গবেষণা, সম্পাদনা ইত্যাদি সাহিত্যের সব শাখাতেই আবদুল হাই শিকদার রেখেছেন তাঁর অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর। এ যাবত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় ১২০টি। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক। মানবতা, মহান স্বাধীনতা, জাতীয়তাবাদী চৈতন্যের ধারক এই কবির মুখে সব সময় ধ্বনিত হয়েছে গ্রেম, প্রকৃতি, বিশ্বমানবতা, শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের কথা। এ জন্য ১৯৯৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরে কবি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলেও মানবমুক্তির স্বপ্না মুক্তচিন্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন। 

তাঁর পুরো পরিবার অংশ নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। লেখালেখির শুরু স্কুলজীবন থেকেই। বিকাশ আশির দশকে। পেশা জীবন শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে, এখনও আছেন সেই পেশাতেই। সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) দুই দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি তিনি। মাঝে নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে পালন করে এসেছেন নজরুল ইন্সটিটিউট-এ। নজরুলের ওপর নির্মাণ করেছেন তিনটি তথ্যচিত্র। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নিয়মিত সাহিত্য মাসিক "এখন"-এর তিনি মূল স্থপতি। কবিতা, শিশুসাহিত্য, জীবনী, গল্প, গবেষণা, ভ্রমণ, চলচ্চিত্র- সব মিলিয়ে তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা এখন ১২০টি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিকড় সন্ধানী ম্যাগাজিন ‘কথামালার” পরিকল্পক, উপস্থাপক। কবিতার জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অন্যান্য অনেক পুরস্কার।

অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল-মাসুম ১৯৭১ সালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার জালালপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কাজী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা এম. এ. কাদের ছিলেন খ্যাতনামা পুলিশ পরিদর্শক। মা কাজী হাজেরা খাতুন গৃহিণী। প্রফেসর ড. আল-মাসুম বিগত দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে বাংলার মুসলমানদের শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতির ওপর গবেষণা করছেন। বাংলা একাডেমি থেকে তাঁর প্রকাশিত 'বাংলার মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার অগ্রগতি' (১৮৮৫-১৯২১) ও 'ব্রিটিশ আমলে বাংলার মুসলিম শিক্ষা: সমস্যা ও প্রসার' শীর্ষক দুটি গবেষণামলুক গ্রন্থ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ব্যাপকভাবে পঠিত। 

আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে তিনি সম্প্রতি (২০১৯) প্রকাশ করেছেন " ‘নেত্রকোণার শিক্ষার ইতিহাস ও আঞ্জুমান মডেল হাই স্কুল’ শীর্ষক গবেষণামলুক গ্রন্থ। তাছাড়া তাঁর প্রায় ৩৫টি গবেষণামলুক প্রবন্ধ, বুক চ্যাপ্টার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, জাপান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল/প্রসিডিংস/প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

ঊসন্তকালীন সাহিত্য উৎসবে এর আগে ৩১ জন কবি-সাহিত্যিককে খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পুরস্কৃতজনরা হলেন- শিক্ষাবিদ অধ্যাপক যতীন সরকার, আনিসুজ্জামান, কবীর চৌধুরী, হুমায়ুন আহমেদ, নির্মলেন্দু গুণ, রাহাত খান, হেলাল হাফিজ, রফিক আজাদ, বুলবন ওসমান, মহাদেব সাহা, জাফর ইকবাল, নাসরিন জাহান, আবু হাসান শাহরিয়ার, সেলিনা হোসেন, সেলিম আল দীন, আলতাফ হোসাইন, আনিসুল হক, জাকির তালুকদার, মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ নুরুল হক, আসাদ চৌধুরী, সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, খালেদ মতিন (মরণোত্তর), রফিকউল্লাহ খান, মারুফুল ইসলাম, কামাল চৌধুরী, শামসুজ্জামান খান (মরণোত্তর), শামীম রেজা, পাপড়ি রহমান ও গোলাম ফারুক খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি, কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজ।

ভোরের আকাশ/র.ই
 

এনামূল হক পলাশসাহিত্য পুরস্কার

শেয়ার করুন: