নাটোরে বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ, নিহত ১৪

নাটোরে যাত্রীবাহী একটি বাস ওভারটেকিং করতে গিয়ে বালুভর্তি একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। এসময় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪ টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন বাসের যাত্রী ও ১জন ট্রাকের ড্রাইভার ছিলেন। নিহত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় সনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে একজন সেনা কর্মকর্তা আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নাটোরের পুলিশ সুপার শরীফুল ইসলাম।
নিহতদের লাশ উদ্ধার করে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল, স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৪০), ডুবি সাহাবুর গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে সালাল মোল্লা (৪৫), একই গ্রামের ইউনুসের ছেলে সোহাগ (৩০) ও আরব আলী ফকিরের ছেলে আব্দুস সামাদ (৭০) এবং কাজিরহাট গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে শাহিন (৩৫)। রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার ফরাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. সোহেল রানা (৪০) ও বাগমারা থানার চায়পাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০)। পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার সুবিদ আলী গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাসফিয়া (৮) ও পূর্ব সুবিদখালী গ্রামের আজাহার হাওলাদারের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৫)। ঝিনাইদহ জেলার বরাতলা থানার বরানগড় গ্রামের বাসিন্দা (বাবার নাম অজ্ঞাত) কালাম (৩৫) তিনি পেশায় একজন ট্রাকচালক ছিলেন।
বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দের এসআই মো. শামীম হোসেন বলেন, আরপি পরিবহনের ওই বাসটি বরগুনা থেকে যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল। ট্রাকটি পঞ্চগড় থেকে বালু লোড করে ঝিনাইদহ যাচ্ছিল। পথে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রামের বনপাড়া সরকারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে ৯ জনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। নিহতদের মধ্যে এক শিশু রয়েছে। তবে ওই শিশুর পরিচয় পাওয়া যায়নি।
তিনি আরোও জানান, ট্রাকটি মহাসড়কের বামপাশের লেন ধরেই যাচ্ছিল। কিন্তু বেপরোয়া গতির ওই বাসটি ওভারটেকিং করতে গিয়ে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পরিবহনের চালকই মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশু থাকলেও একাধিক নারী ও বৃদ্ধ রয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রাশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার শরীফুল ইসলাম, গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৭ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহত পরিবারগুলোকে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তাছাড়া দুর্ঘটনা রোধে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যেগ নেবেন তিনি।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, লাশগুলো উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১০ জনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। অন্য লাশের পরিচয় শনাক্তের কাজ করছেন তারা। পরিচয় পাওয়া গেলে লাশগুলো পরিবারেরর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করেন তারা। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, হাসপাতাল, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তারা ধরানা করছেন।
নাটোর পুলিশ সুপার শরীফুল ইসলাম বলেন, নিহতদের মধ্যে একজন সেনা কর্মকর্তাও আছেন। তবে ওই কর্মকর্তার পরিচয় শনাক্ত হয়নি। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। ট্রাকটি সরিয়ে নিতে কাজ করা হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব