কুমিল্লায় জলাবদ্ধতা নৌকায় চড়ে কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

টানা ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় কয়েকটি কেন্দ্রে নৌকায় করে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়।
নগরের কুমিল্লা মহিলা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের ভেতরে শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে নৌকায় করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
পরীক্ষার্থী তাছলিমা আক্তার বলেন, এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী ভেজা কাপড়েই পরীক্ষা দিতে প্রবেশ করেছেন। জলাবদ্ধ সড়কে কয়েকজনকে পড়ে যেতেও দেখা গেছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার জানান, এ কেন্দ্রে আটটি কলেজের প্রায় ২ হাজার ১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। মাঠে পানি জমলেও পরীক্ষার কক্ষগুলোতে কোনো সমস্যা হয়নি। যারা বিলম্বে কেন্দ্রে এসেছে, তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ার জন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা রয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ বলেন, বোর্ডের অধীন ছয় জেলার কয়েকটি কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা দেখা দিলেও কোথাও পরীক্ষার কক্ষে পানি প্রবেশ করেনি। বিলম্বে আসা পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে সহানুভূতিশীল হতে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে তিনি মহিলা সরকারি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করার কার্যক্রম তদারকি করেছেন।
আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দিনভর আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারী বর্ষণে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে। এদিকে জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
ভোরের আকাশ/জেআ