ঘোড়াঘাটে চালকের সাহসিকতার অটোরিকশা উদ্ধার

এলাকাবাসীর টর্চের আলোতে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেল অটোরিকশা চালকের প্রাণ। ছিনতাই করে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় এক ব্যক্তির টর্চের আলো দেখে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (মিশুক) উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে চালকের সাহসিকতা ও এলাকাবাসীর সহায়তায় এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ সোপর্দ করে।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত অনুমানিক সাড়ে আটার সময় উপজেলার ৩নং সিংড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের দেওলাবিল পাকা রাস্তা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছিনতাইকারী শনিবার রাতে যাত্রী সেজে ডুগডুগি বাজার থেকে রাণীগঞ্জ যাওয়ার কথা বলে অটোরিকশাটি (মিশুক) ভাড়া নিয়ে যাওয়ার পথে রামেশ্বরপুর গ্রামের দেওলাবিল নামক নির্জন স্থানে চালককে জিম্মি করে তারা অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয়।
চক্রের একজন অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে গেলেও বাকি দুইজন চালককে ধানক্ষেতে নিয়ে ছুরি ধরে হত্যার চেষ্টা চালায়। চালকের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি ছুরিকাঘাতে আহত হন। ঠিক সেই মুহূর্তে পাশের জমিতে সেচ দিতে থাকা টর্চলাইটের আলো ফেললে বাকি ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। এই সুযোগে আহত চালক সাহসিকতার সাথে কুন্দারামপুর এলাকার মোস্তফা মিয়া ওরফে মোস্তাকে (৫৬) জাপটে ধরেন, তার চিৎকারে পার্শ্বের গ্রামের লোকজন ছুটে এসে ছিনতায়কারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। ভুক্তভোগী মোঃ একরামুল হক (৫০), পিতা-মৃত আব্দুস সামাদ, সাং-চৌধুরী গোপালপুর (বিলপাড়া), থানায় হাজির হয়ে অপর পলাতক দুই আসামি মোঃ সুমন মিয়া (৩২), পিতা-নজরুল ইসলাম এবং মোঃ রফিকুল ইসলাম (৫৭), পিতা-মৃত আলতাফ ফকিরের নামে লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় চালক বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অটোরিকশার আনুমানিক বাজার মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।
ভোরের আকাশ/আ.র