কুড়িগ্রামে জমি বিরোধের জেরে নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ওই নারীর ছেলে ও দেবরও আহত হয়েছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
গত ৫ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে সদর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী মোছাঃ মনোয়ারা বেগম (৫৬)। তিনি পলাশবাড়ী বানিয়া পাড়ার বাসিন্দা মোঃ ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী।
এ ঘটনায় মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন, পলাশবাড়ী কবিরাজ পাড়ার মৃত বজলার রহমানের ছেলে আমিনুল ইসলাম মুকুল (৬৫), অহেদুল ইসলাম বাবলুর ছেলে রাসেল মিয়া (৩৬), আমিনুল ইসলাম মুকুলের ছেলে তানভীর ইসলাম তুরাগ (৩২), আমিনুল ইসলাম মুকুলের স্ত্রী তুলি (৪৮) ও অহেদুল ইসলাম বাবলুর স্ত্রী রেজিয়া সুলতানা (৪৫)।
অভিযোগে জানা যায়, পলাশবাড়ী কবিরাজ পাড়ার ওই পরিবারটির সঙ্গে মনোয়ারা বেগমের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন অভিযুক্তরা মনোয়ারা বেগমের ভোগদখলীয় জমিতে গাছের চারা রোপণ করতে গেলে তিনি বাধা দেন। এতে তানভীর ইসলাম তুরাগের নির্দেশে সবাই লাঠিসোঁটা, লোহার রড, দা ও খন্তা নিয়ে জোর করে জমিতে ঢুকে পড়েন।
এ সময় তুলি ও রেজিয়া সুলতানা খন্তা দিয়ে মনোয়ারা বেগমের বুকে আঘাত করে মারধর শুরু করেন। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছেলে মোঃ মামুনুর রশিদ ও দেবর রমজান আলীকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। মনোয়ারা বেগম মাটিতে পড়ে গেলে আমিনুল ইসলাম মুকুল ও রাসেল মিয়া তাঁর পরনের কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন। একই সময় তুলি তাঁর কানে থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল (পাশা) ও গলায় থাকা ১০ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন।
পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মনোয়ারা বেগমকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যাক্তি বলেন, এখানে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠকও হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত মামলাও আদালতে বিচারাধীন। আমিনুল ইসলাম মুকুলের লোকজন সেই জমিতে গাছ রোপণ করতে আসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি খুব খারাপ হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানার জন্য অভিযুক্ত পক্ষের রাসেলের বাবা ওয়াহিদুল ইসলাম বাবলুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, "উভয়পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভোরের আকাশ/ এনউব