উত্তরাঞ্চলের ঈদযাত্রা হবে স্বস্তির, মহাসড়কে চার লেন চালু

ঈদ যাত্রায় নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি ও গলার কাটা ছিলো উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক। কিন্তু এবছরে ঈদযাত্রায় গাড়ির চাপ সামাল দিতে বহু প্রতিক্ষার পর শেষ হয়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের চার লেনের কাজ।
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক আর হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের দুটি লেইনের কাজও শেষ। যানজট নিরসন আর যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রস্তুতি নিচ্ছে হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ। সব মিলিয়ে এবার উত্তরের জেলা গুলোতে ঈদ যাত্রা হবে স্বস্তির এমনটা প্রত্যশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলায় মহাসড়ক রয়েছে মোট ১০৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে যমুনা সেতু পশ্চিম টোল প্লাজা থেকে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার, হাটিকুমরুল থেকে নাটোর টোলপ্লাজা পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার, হাটিকুমরুল থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার এবং হাটিকুমরুল থেকে বাঘাবাড়ি ঘাট পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে।
এই মাহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশের উত্তর ও দক্ষিনঞ্চলের ২২ জেলার প্রায় ১৭-১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করে। তবে ঈদ উপলক্ষে এই মহাসড়ক দিয়ে প্রায় তিনগুন যানবাহন চলাচল করে। যে কারনে যানজট লেগেই থাকতো। বছরের দুইটি ঈদের সময় যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার মহাসড়ক পারাপারে যাত্রী ও চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
কিন্তু এবার সে চিত্র হবে অন্যরকম। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর মহাসড়ক এখন চারলেনে উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক সমান চওড়া। ফলে দীর্ঘ ভোগান্তির পর স্বস্তির আশা ঈদ যাত্রায়। তবে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্কা দুর্ভোগের কারন হতে পারে হাটিকুমরুল ইন্টার চেঞ্জ। একারনে পৃথক লেনে গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা করছে পুলিশ।
আর যাত্রীদের নিরাপত্তায় পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। রাতে গাড়ি চলাচলে দেওয়া হচ্ছে স্কট সুবিধা। ঈদযাত্রা নির্ভিঘ্ন করতে করা হয়েছে সংস্কার কাজ। সাসেক-২ প্রকল্পের সুফল পাবে এ অঞ্চলের মানুষ। সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে এবার নিরাপত্তায় থাকছে হাজারেরও বেশি পুলিশ। চাঁন রাত পর্যন্ত চলবে নিরবিচ্ছিন্ন পাহারা। সড়ক শৃঙ্খলার জন্য ব্যবহার হবে ড্রোন ক্যামেরা।
বাস চালক আমিনুল ইসলাম ভোরের আকাশকে বলেন, আগে এই মহাসড়কে অনেক যানজট হতো, তার কারণ তখন রাস্তা ছোট ছিলো। এখন রাস্তা ফোর লেন করা হইছে, তাই এখন আর কোন সমস্যা ও যানজট হয়না। আমি আশা করি ঈদে নিরাপদে মানুষ বাড়ি ফিরতে পারবে।
বাস চালক আব্দুল লতিফ ভোরের আকাশকে বলেন, আগের মতো এখন আর মহাসড়কে যানজট নাই। এখন মহাসড়ক চারলেনে উন্নতি করা হয়েছে। মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ দেওয়া হয়েছে। এখন য়াত্রীরা ভালো সেবা পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত মহাসড়কে কোন সমস্যা নাই। আশা করা যাচ্ছে এবার ঈদে মহাসড়কে কোনো সমস্যা হবে না। মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবে।
হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আলম ভোরের আকাশকে বলেন, আশা করা যায় এবার ঈদে যানজট হবে না। বাংলাদেশ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, সড়ক ও জনপথ মিলে কাজ করছি। যমুনা সেতু থেকে হাটিকুমল গোলচত্বর পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনের কাজ শেষ হয়েছে।
হাটিকুমরুলের ইন্টার চেঞ্জের সার্ভিস লেন গুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। বগুড়া থেকে ঢাকা চার লেন চালু আছে। এছাড়া ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক (র্যাম-বি) ঈদের আগেই চালু করা হবে। আশা করা যায় এবারের ঈদে কোন যানজট হবে না। ঈদ হবে শঙ্কা মুক্ত ও নিরাপদ।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তু ভোরের আকাশকে বলেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে বাসের পরিমান ততো বেড়ে যাবে। আমাদের কাজীপুরেই শুধু ৩শতাধিক বাস আসে গার্মেন্টস কর্মীদের নিয়ে। এটি তো এখন আসছে না। যখন আসবে তখন মহাসড়কে প্রেশার বাড়বে।
একই ভাবে উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে যে কোন জেলার চেয়ে বেশি যানজট মোকাবেল করতে হবে। যেই লক্ষে আমরা কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। এবং সড়ক শৃঙ্খলার জন্য ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। একি ভাবে আমি সহ সকল কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় মহাসড়কে থাকি। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত রাস্তায় থেকে সর্বচ্চ চেষ্টা করে যাবো যানজট নিরসন ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
ভোরের আকাশ/ র.ই
মোঃ মাসুদ রানা