শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সংরক্ষিত বনের বুক চিরে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ

চকরিয়ায় এলজিইডির প্রকল্পে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৮ মার্চ ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার আজিজনগর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বুক চিরে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। উন্নয়নের নামে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং পুরো বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের আজিজনগর স্টেশন এলাকার পশ্চিম দিক থেকে নুর-আয়েশার টেক পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম এস আমিন এন্টারপ্রাইজ।

তবে স্থানীয় পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, এলাকাটিতে ইতোমধ্যে চলাচলের জন্য একাধিক বিকল্প সড়ক থাকার পরও সংরক্ষিত বনের মাঝ দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, কিছু প্রভাবশালী মহলের সুবিধা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত সড়কের আশপাশে আগে থেকেই কয়েকটি চলাচলযোগ্য রাস্তা রয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগের জবরদখলকৃত কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি বসতি গড়ে উঠেছে। পরিবেশবিদদের মতে, নতুন সড়ক নির্মাণ হলে এসব দখলদার আরও উৎসাহিত হবে এবং ধীরে ধীরে বনভূমি দখলের প্রবণতা বাড়বে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরা’-এর সমন্বয়ক সানজিদা রহমান বলেন, আজিজনগর বনবিটের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি বন কেবল গাছের সমষ্টি নয়, এটি অসংখ্য প্রাণের আবাসস্থল, প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ভিত্তি এবং জলবায়ু সুরক্ষার অন্যতম প্রধান অবলম্বন।

তিনি বলেন, বনের মাঝখান দিয়ে রাস্তা তৈরি হলে বনভাগ খণ্ডিত হয়ে যায়। এতে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং তাদের আবাসস্থল ধ্বংসের ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে মানুষের অনুপ্রবেশ বাড়ে, ফলে অবৈধ গাছকাটা, বন্যপ্রাণী শিকার ও ভূমি দখলের মতো অপরাধ বেড়ে যায়। উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই উন্নয়ন যদি প্রকৃতির ধ্বংস ডেকে আনে, তবে তা কখনোই টেকসই হতে পারে না।

আজিজনগর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসিফ মিয়া দাবি করেন, বন বিভাগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় বা অনুমতি ছাড়াই এলজিইডি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য যখন মাটি কাটার কাজ শুরু হয়, তখন আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধা দিই। কিন্তু আমাদের আপত্তি উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে এভাবে রাস্তা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। এটি পরিবেশ ও আইন, দুই দিক থেকেই অগ্রহণযোগ্য।

চুনতী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তিনি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকল্পটি বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বন ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমরা চাই উন্নয়ন হোক, কিন্তু তা যেন প্রকৃতি ধ্বংসের বিনিময়ে না হয়। বনভূমি একবার ধ্বংস হয়ে গেলে তা আর সহজে ফিরিয়ে আনা যায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাশ বলেন, আমি সম্প্রতি চকরিয়ায় যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। খোঁজ নিয়ে পরে সঠিক তথ্য জানাতে পারব।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, এ ধরনের একটি তথ্য আমার কাছেও এসেছে। তবে এটি আমার এখানে যোগদানের আগের প্রকল্প। যতটুকু জেনেছি সেখানে আগে থেকে একটি ইটের সড়ক ছিল। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা নুর জাহান বলেন, ওই এলাকায় নতুন রাস্তা নির্মাণ হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতোমধ্যে ভূমিদস্যুদের দখলে শত শত একর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। এর ওপর সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হলে নির্বিচারে বন উজাড়, বনভূমি দখল এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের ঝুঁকি আরও বাড়বে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বন একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তুতন্ত্র। এখানে প্রতিটি গাছ, পাখি, প্রাণী, মাটি ও জল একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যখন একটি রাস্তা বনের মাঝ দিয়ে কেটে দেওয়া হয়, তখন সেই বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক চক্র ভেঙে যায়। এর ফলে শুধু বন্যপ্রাণী নয়, পুরো এলাকার জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।

সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে অবশ্যই পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) করা জরুরি। পরিবেশ ও প্রকৃতিকে ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। বরং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পিত উন্নয়নই হতে পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পথ।

স্থানীয়দের মতে, আজিজনগর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কেবল একটি বনভূমি নয়, এটি প্রকৃতির এক অমূল্য ভাণ্ডার, যেখানে অসংখ্য প্রাণের বসতি। এই বন রক্ষা করা মানে শুধু গাছ বাঁচানো নয়, বরং মানুষের ভবিষ্যৎ ও পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করা।

ভোরের আকাশ/ র.ই

 

পরিবেশ বিপর্যয়সানজিদা রহমান

শেয়ার করুন: