সিদ্ধিরগঞ্জ মহাসড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি বিপজ্জনক, যান চলাচল ব্যাহত

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর হাইভোল্টের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। হাইভোল্টের এ বৈদ্যুতিক খুঁটিটি এখন যানবাহন চলাচলের সময় মরণফাঁদ বলে মনে করছে যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা।
খুঁটিটির কারণে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী এসি ও ননএসিযুক্ত অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী বাসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খুঁটিটির কারণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার (২৯জানুয়ারী) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে বৈদ্যুতিক এ খুঁটির কারণে যানবাহন চলাচলে চরম বাধা সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয়রা ব্যস্ততম মহাসড়কের উপর থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি অন্যত্র সরানোর জোর দাবি জানান।
জানা যায়, শিমরাইল মোড়টি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বাসস্ট্যান্ড। এ বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৮টি জেলার দূরপাল্লার যাত্রীবাসসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। সওজ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি এখন ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত আট লেনের মহাসড়কে পরিণত করা হয়েছে। এ জন্য মহাসড়কটি প্রশস্ত করা হয়েছে। মহাসড়কটি প্রশস্ত করার সময় শিমরাইল মোড়ের হাইভোল্টের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি মহাসড়কের ওপর রেখেই আরসিসি ঢালাই করা হয়। বৈদ্যুতিক এ খুঁটিটি এখন চট্টগ্রামমুখী লোকাল দুই লেনের মাঝে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি দীর্ঘ এক বছর ধরে এ খুঁটিটি বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। এ খুঁটিটি সড়কের মাঝে রেখেই উভয় সাইট দিয়ে দুরপাল্লার যানবাহনসহ নানা ধরণের যানবাহন চলাচল করে আসছে। এ ছাড়াও ডেমরা-শিমরাইল সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুঁটির কাছ দিয়েই মিলেছে। তাই খুঁটিটি এখন যানবাহন চালক ও যাত্রীদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুঁটিটির কারণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা।
ড্রাইভারদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, বিশেষ করে রাতে বেলা খুঁটি আরো বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, খুঁটিটি ডিপিডিসির অধীনে রয়েছে। এ খুঁটি দিয়ে হাইভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়েছে। ডেমরা-শিমরাইল সড়কের যানবাহনগুলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রবেশের সময় খুঁটির কারণে যানবাহনগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছে ডেমরা-শিমরাইল সড়কের যানবাহনগুলো।
শিমরাইল মোড়ের একটি দূরপাল্লার গাড়ির কাউন্টারের টিকেট বিক্রেতা শরীফ মিয়া বলেন, শিমরাইল মোড়ে প্রায় শতাধিক দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের কাউন্টার রয়েছে। এ কারণে যাত্রী উঠাতে দুরপাল্লার বাসগুলোকে লোকাল লেনে আসতে হয়। আর তখনই মহাসড়কের উপর বিপদজনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিটি নানাভাবে বাধাগ্রস্থ করছে। বিশেষ করে রাতে বেলা খুঁটিটি আরো বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে।
শিমরাইলের দোকানদার নুর হোসেন জানালেন, হাইভোল্টের খুঁটিটিকে একটি যানবাহন ধাক্কা দিয়েছিল। তাই খুঁটিটির মাঝ খানে একটু ক্ষতিও হয়েছে।
সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা ঘাট পর্যন্ত চলাচলত একটি পাবলিক বাসের হেলপার শাহ আলম বলেন, খুঁটি যানবাহন চলাচলের সময় নানা অসুবিধার সৃষ্টি করছে। এ খুঁটিটির কারণে যে কোন সময় বড় ধরণের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।। জরুরি ভিত্তিতে হাইভোল্টের খুঁটিটি অন্যত্র সরানোর জোর দাবি জানাচ্ছি।
হিমালয় পরিবহনের হেলপার সাজ্জাদ বলেন, প্রায় এক বছর ধরে বৈদ্যুতিক এ খুঁটিটি মহাসড়কের লোকাল লেনের মাঝে বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সওজ কর্তৃপক্ষ খুঁটিটি অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা করছেন না। যদি দ্রুত খুঁটিটি অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা না হয়, তবে যে কোন সময় বড় কোন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) জুলহাস উদ্দিন বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটিটির কারণে গাড়ি ঘুরতে পারে না। যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। রাতে বেলা যদি বৈদ্যুতিক এ খুঁটিতে কোন যানবাহন ধাক্কা লাগে তবে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে বড় ধরণের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এটি মহাসড়কের পাশে সরানো হলে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, মহাসড়কের ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটিটি সরানোর জন্য ডিপিডিসিকে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা সড়কের অন্যান্য জায়গার খুটিগুলো সড়িয়ে নিচ্ছে। অতি শীঘ্রই শিমরাইল সড়কের এ বৈদ্যুতিক খুটিটি ডিপিডিসি সড়িয়ে নিবে বলে জানান।
ভোরের আকাশ/র.ই