চাঁদপুরে স্কুল চলাকালে পানিতে ডুবে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের পশ্চিম সকদী গ্রামে ক্লাস চলাকালে ডাকাতিয়া নদীতে ডুবে আয়েশা জাহান নোমেরা (১১) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে মেধা বিকাশ কিন্ডারগার্টেন সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নোমেরা ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাশিয়ালী গ্রামের বাসিন্দা হলেও সে চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম সকদী এলাকায় নানার বাড়িতে থেকে ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। নিহত আয়েশা জাহান পশ্চিম সকদী গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালেই নোমেরা বিদ্যালয়ে আসে। তবে ক্লাস চলাকালীন একপর্যায়ে সে বিদ্যালয়সংলগ্ন বিপজ্জনক ডাকাতিয়া নদীর তীরে চলে যায়। সেখানে খেলাধুলার একপর্যায়ে পা পিছলে নদীতে পড়ে সে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় এক ব্যক্তি নদীর শাখায় মরদেহ ভাসতে দেখে চিৎকার করলে এলাকাবাসী দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, বিদ্যালয়টির অবস্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার পাশে স্থাপিত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া বিদ্যালয়ের চারপাশ ঝোপঝাড়ে ঘেরা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ন্যূনতম কোনো প্রাচীর বা সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয়দের দাবি, ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে থাকলেও শিক্ষার্থীরা প্রায়শই নদী বা সড়কের দিকে চলে যায়। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তদারকি ও নজরদারি না থাকার কারণেই এই অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনসুর খান বলেন, খবর পেয়ে স্কুলের কাছে এসে দেখি মরদেহ ইটভাটার পাশে রাখা হয়েছে। পরে তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিনা বেগম জানান, পানিতে ডুবে শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে কিছু জানাননি। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই বিষয়টি প্রথম জানলাম।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো আমাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় না, এগুলো সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করে থাকে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ