সৌদিতে ‘বিক্রি করে দেওয়া’ রেহেনা দেশে ফিরছেন কাল

হবিগঞ্জের মাধবপুরের গৃহবধূ রেহেনা খাতুনকে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গৃহকর্মীর ভিসায় জেদ্দায় গিয়ে অতিরিক্ত কাজ, বেতন-ভাতা না পাওয়া এবং দেশে ফিরতে না পারার অভিযোগ তোলা রেহেনাকে গত ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাকে দেশে ফেরানো হবে; বিমানের টিকিটও নিশ্চিত করা হয়েছে।
রেহেনা মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা। প্রায় দুই মাস আগে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় তিনি জেদ্দায় যান। গত ৩ অক্টোবর গোপনে পাঠানো ভিডিওবার্তায় তিনি অসুস্থ ও বিপদের মধ্যে থাকার কথা জানান। অতিরিক্ত কাজ করানো, ঠিকমতো খাবার না দেওয়া এবং দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে দেশে ফেরাতে সরকারের সহযোগিতা চান। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি সরকারি দপ্তরের নজরে আসে। এ বিষয়ে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি দিয়ে রেহেনাকে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরদিন তাকে দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে রেহেনাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
রেহেনার অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার পর তাকে অতিরিক্ত কাজ করানো হয় এবং খাবার ও বেতন-ভাতা ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। দেশে ফিরতে চাইলে একটি সৌদি এজেন্সি তার কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে তাকে ‘বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে’ বলেও জানানো হয়। সর্বশেষ ভিডিওবার্তায় তিনি জোরপূর্বক সম্মতিপত্র বা জবানবন্দি নেওয়ার অভিযোগ করেন এবং দ্রুত দেশে ফেরার আকুতি জানান।
রেহেনার স্বামী আলী আহমদ বলেন, দেশে ফেরানোর উদ্যোগে তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে বকেয়া বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ করা হয়নি; পাওনা অর্থ আদায়ে দূতাবাস ও সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের গিয়াস উদ্দিনের নাম বলা হয়েছে।
গিয়াস উদ্দিনের দাবি, কিছু খরচাপাতি দিলে রেহেনাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা যাবে। ঢাকার ফকিরাপুলের রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিজের কর্মকর্তা হাসান নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দেশে ফিরতে হলে সংশ্লিষ্ট খরচ বহন করতে হবে।
এদিকে দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়ার পর রেহেনার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জেনিয়া ওভারসিজের কর্মকর্তা হাসান বলেন, রেহেনাকে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে আছেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব